টিপ পরায় হেনস্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মার্কিন দূতাবাসও

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৭:৫০ পিএম

টিপ পরায় ঢাকার রাস্তায় তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হেনস্তার প্রতিবাদে এবার শামিল হল মার্কিন দূতাবাসও। মঙ্গলবার বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে লতা সমাদ্দারকে হেনস্থার প্রতিবাদ জানায়।

দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘চলতি সপ্তাহে একজন শিক্ষককে টিপ পরার জন্য এক পুলিশের সদস্যের হেনস্তার বিরুদ্ধে সকল বাংলাদেশিদের প্রতিবাদের সঙ্গে শামিল হচ্ছে মার্কিন দূতাবাস কমিউনিটি। আমাদের কাছে সব ধরনের হয়রানিই অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের বৈচিত্র্য উদযাপন করে এবং সকল ব্যক্তির প্রতি সম্মানের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সদস্যরা শিক্ষক এবং অন্য যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন’।

কপালে টিপ পরায় ঢাকার রাস্তায় গত শনিবার হয়রানির শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার। সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

লতা সমাদ্দারের ঘটনাটি শনিবার রাতেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফেসবুকে নারীরা টিপ পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পুরুষেরাও শামিল হন এই প্রতিবাদে। পুরো দেশজুড়েই প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও প্রতিবাদ উঠে। হেনস্তাকারীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে রবিবার জাতীয় সংসদে দাবি জানান সংসদ সদস্য এবং অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

এরপর সোমবারই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেককে শনাক্ত করে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে কলেজশিক্ষক লতা সমাদ্দার বলেছিলেন, ‘আমি হেঁটে কলেজের দিকে যাচ্ছিলাম। হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দিলেন। তাকিয়ে দেখলাম তার গায়ে পুলিশের পোশাক। একটি মোটরবাইকের ওপর বসে আছেন। প্রথম থেকে শুরু করে তিনি যে গালি দিয়েছেন, তা মুখে আনা, এমনকি স্বামীর সঙ্গে বলতে গেলেও লজ্জা লাগবে। ঘুরে ওই ব্যক্তির মোটরবাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। তখনো তিনি গালি দিচ্ছেন। লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। একসময় আমার পায়ের পাতার ওপর দিয়েই বাইক চালিয়ে চলে যান’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত