জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে মেডিকেল সেন্টারে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, প্রাইভেট কোচিংয়ে ক্লাস নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের অপমান অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার এক শিক্ষার্থী তাকে ভাই বলে সম্বোধন করায় তাকে অপমান অপদস্থ করেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ডা. এম এম আশরাফ উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠে। তিনি কোচিংয়ে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ভাই ডাকার কারণে অপমান অপদস্থ করার বিষয়ে অভিযুক্ত আশরাফ উদ্দিন তালুকদার বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীকে বলেছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো জানা উচিত কাকে কি সম্বোধনে ডাকতে হয়। ভাই ডাকা যাবে না। তবে আমি স্যার কিংবা অপমান হয় এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করিনি।
তবে দেশ রূপান্তরের হাতে আসা একটি কল রেকর্ডে এই ডাক্তারকে বলতে শোনা গেছে, ঢুকেই তো একটা বেয়াদবি করে ফেলছ। আমি ভাই বলতে না করেছি এবং স্যার ডাকতে বলেছি। স্যার ডাকতে বলেছি বলে কি অন্যায় হয়েছে? পড়াশোনা শেষ করে একদিন সবাইকেই জবে আসতে হবে। তখন বুঝবে আমি কেন ভাই বলতে না করেছি।
গণমাধ্যমের কাছে ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বলে দেন ‘শিক্ষক ছাড়া অন্য কাউকে স্যার ডাকা যাবে না’। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তবে অডিও কথোপকথনের প্রসঙ্গে অবহিত করলে তিনি বলেন, আমি হয়তো স্থিরতা হারিয়ে এসব বলেছি।
একাধিক শিক্ষার্থীও অভিযোগ তুলেছে এই ঘটনা সামনে আসার পর। সুস্মিতা সরকার পিউ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তির পর আমার বিভাগের এক সহপাঠীর অসুস্থতায় যখন মেডিকেলে যাই আমিও ভাই ডেকেছিলাম। এর জন্য তিনি আমাকে বলেন, আমি ডাক্তার, আপনারা শিক্ষিত মানুষ হয়ে ভাই কি করে ডাকেন? ডাক্তারকে সম্মান দিতে জানুন। স্যার ডাকবেন।
আরেক শিক্ষার্থী ঝরনা আফরিন বলেন, ভাই বলেছিলাম বলে রেগে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো ম্যানার শেখো নাই? ফাস্ট ইয়ারে ছিলাম তাই কিছু বলার সাহস পাই নাই।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র মেডিকেল অফিসারের পদে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি ক্লাস নেন প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে। কোচিংয়ে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।
সরকারিবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য লাভজনক কাজে যুক্ত থাকতে হলে সেটি অনুমতি নিয়ে এবং সেখান থেকে আয়ের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি মানেননি তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের প্রধান ডা. হেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি কোচিংয়ে ক্লাস নেন জানি। এটা নিতে পারেন কিনা আমার জানা নেই।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে থাকাবস্থায় কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নিতে পারবেন না তিনি।
