ইউক্রেন সংকটের মুখে পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বুঝতে পারা না পারার নতুন গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। পুতিনের পরিকল্পনা বা পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে ইউরোপ-আমেরিকা রীতিমতো উঠেপরে লেগেছে।
এ পরিস্থিতিতে জার্মানিতে পুতিন বিষয়ক বা পুতিন সমর্থকদের সমার্থক একটি শব্দ বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। শব্দটি জার্মানির গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যরাও ব্যবহার করছে।
জার্মান শব্দ ‘ফ্যায়াস্টেহেন' মানে বোঝা বা বুঝতে পারা। ফ্যায়াস্টেহেনের বিশেষ্য হচ্ছে ‘ফ্যায়াস্টেয়া', অর্থাৎ যিনি বুঝতে পারেন। এর সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম যুক্ত করে ‘পুতিনফ্যায়াস্টেয়া’ শব্দটি তৈরি।
পুতিনফ্যায়াস্টেয়া টার্মটি নিয়ে সম্প্রতি উইকিপিডিয়ায় একটি ইংরেজি পাতাও খোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, পুটিন পুতিনফ্যায়াস্টেয়া হচ্ছেন সেই রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি যিনি বা যারা পুতিনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। অর্থাৎ পুতিন যেভাবেই রাশিয়া শাসন করুন না কেন পুতিনফ্যায়াস্টেয়ারা বলবেন, ‘হ্যা ঠিক আছে, কিন্তু আপনাকে পুতিনের অবস্থাটা বুঝতে হবে।’
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলের পর জার্মানিতে ‘পুতিনফ্যায়াস্টেয়া’ টার্মটি প্রথম চালু হয়। ওই বছরের এপ্রিলে ফোর্বস ম্যাগাজিনে একটি ব্লগের শিরোনামে এটি ব্যবহার করেছিলেন হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক পল গ্রেগরি। শিরোনামটি ছিল ‘এম্পেথাইজিং উইথ দ্য ডেভিল: হাও জার্মানিস পুতিন-ফ্যায়াস্টেয়াস শিল্ড রাশিয়া’। লেখাটিতে রাশিয়ায় খারাপ মানবাধিকার পরিস্থিতির রেকর্ডসহ জার্মানির কিছু শীর্ষ রাজনীতিবিদ কীভাবে রাশিয়ার পক্ষ নিচ্ছেন তা তুলে ধরা হয়েছিল।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে এমন ওয়েবসাইট ‘রিডল’-এর এক প্রবন্ধে পুতিনফ্যায়াস্টেয়া টার্মটি ব্যবহার করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ দিমিত্রি স্ট্র্যাটিভস্কি।
অনেক সময় রাশিয়ার সমালোচনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পুতিনফ্যায়াস্টেয়ারা পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য নিপীড়নের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসেন। যেমন রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার সঙ্গে তারা হয়ত ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক হামলার (আরেকটি অবৈধ যুদ্ধ) তুলনা করতে পারেন।
সূত্র: ডয়েচ ভেলে।
