যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১১:২০ পিএম

চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা ৪৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। করোনা-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির কারণে সে দেশে পোশাক রপ্তানিতে এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের তথ্যে দেখা যায়, আলোচিত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ আয় করেছে ১৪৪ কোটি ডলার। যা ২০২১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১০০ কোটি ডলার।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারী সৃষ্ট আঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানো যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ক্যাজুয়াল (নিটওয়্যার) আমদানির আদেশ বাড়ার কারণেও পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। ওটেক্সা ডেটার তথ্যমতে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে বিশ্ববাজারে পোশাক পণ্যের পরিমাণের তুলনায় দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিমাণের দিক দিয়ে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আলোচিত দুই মাসে দেশটিতে ৫৩ কোটি ঘনমিটার পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। আগের বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার।

পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের ইউনিট প্রাইস ও চালানের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলেই দেশটি থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কভিড-১৯ মোকাবিলা করে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর থেকেই সে দেশে বাংলাদেশের পোশাকের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ওটেক্সার তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে সারা বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫০২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিমাণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সারা বিশ্বের পোশাক রপ্তানি ২৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৫২৪ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। আলোচিত দুই মাসে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৪৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি থেকে চীন আয় করে ২৪৫ কোটি ডলার।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ২৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে।

আলোচিত দুই মাসে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৪৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

এর পরেই ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। আগের বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে ইন্দোনেশিয়া আয় করে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, কম্বোডিয়া থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের একই সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ৪৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত