বৈষম্যবিরোধী আইনে শাস্তির বিধান যুক্ত করার দাবি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২২, ১১:২০ পিএম

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইনে শাস্তির বিধান নেই। এই আইনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে সুষ্পষ্ট শাস্তির বিধান যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল রবিবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন’ শীর্ষক এক সংলাপে এ দাবি জানান তারা।

আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তদারকির জন্য একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন বক্তারা। বৈষম্যবিরোধী যে বিল সম্প্রতি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজন করা হয় এ আলোচনা সভা। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বহুদিন ধরেই এমন একটি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানের মৌলিক ধারাগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই আইনটি উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এই আইনের সঠিক বাস্তবায়নের জন্যে দৃশ্যমান রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা, দক্ষ প্রশাসন ও নাগরিক নজরদারি প্রয়োজন।  

নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন বলেন, ঢাকায় বসে প্রত্যন্ত ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে কী ধরনের বৈষম্য চর্চা হয়, সেটা বোঝা খুব কঠিন। উত্থাপিত আইনে সুস্পষ্টভাবে  কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। এক্ষেত্রে আইনে সুস্পষ্ট শাস্তির বিধান থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে মনিটরিং কমিটির মেয়াদ ২ বছরের বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়া যেতে পারে।  

ানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ২০০৭ সালে প্রথম এর কাজ শুরু হয় এবং লক্ষ্য করা হয়, বৈষম্যকে সুনিদির্ষ্টভাবে লক্ষ্য করে কোনো আইন নেই। পরবর্তী সময়ে জনমত জরিপের মাধ্যমে ২০১৩ সালে আইন কমিশনে খসড়া জমা  দেওয়া হয়। এখন এই আইনটি জনগণের প্রত্যাশাকে প্রতিফলিত করে কি না সেটা পর্যবেক্ষণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেজন্য সঠিক মনিটরিং কমিটি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) বলেন, সামগ্রিকভাবে একটি আইনের মাধ্যমে সব ধরনের বৈষম্যকে  কেন্দ্রীভূত করার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে আইনে বৈষম্যের সংজ্ঞায় এখনো কিছু সমস্যা আছে। তাছাড়া, রাষ্ট্রের অনেক আইনেই বৈষম্যমূলক ধারা আছে।

সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের সিনিয়র ফেলো ড. ফস্টিনা পেরেইরা বলেন, প্রতিকারের জায়গাটা আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। যেমন একজন ব্যক্তি একের অধিক ধরনের বৈষম্যের সম্মুখীন হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি কী ধরনের প্রতিকার পাবেন,  সেটা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া, উত্থাপিত আইনে অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে সবশেষে প্রতিকার পেতে এক ধরনের প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা লক্ষণীয়। একজন ক্ষতিগ্রস্ত নিজ থেকে অভিযোগ দায়ের করার আগেই ক্ষতিগ্রস্তের জন্য রাষ্ট্রকে নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্যোগী হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক শূন্যতার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতার ব্যাপ্তি ঘটানোর জন্যই সব ধরনের আইন প্রণীত হয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের আইনে মনিটরিং কমিটি গঠিত হলেও, তাদের কোনো ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন দেখা যায় না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বৈষম্যের কাঠামোগত সংজ্ঞায়নে মানসিক প্রতিবন্ধী, বর্ণবৈষম্য ও এসিডদগ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাছাড়া, এই আইনে ভূমির আইনগত মালিকদের কথা বলা হলেও, প্রথাগতভাবে ভূমির মালিকদের তথা আদিবাসীদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। আইনের বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতি আলোকপাত করে তিনি উল্লেখ করেন, একটি বৈষম্যবিরোধী কমিশন গঠন করার মাধ্যমে উত্থাপিত আইনের বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সেটা দেখা জরুরি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত