সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর কথা বলে ঢাকা এনে এক নারীকে ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর রামপুরা ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তোফায়েল আহম্মেদ, কামরুল আহম্মেদ, খালেদ মাসুদ হেলাল ও মো. জামাল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৭টি পাসপোর্ট, একটি কম্পিউটার, ১০০টি ভিসার কপি, ১২৫টি টিকিট, চারটি মোবাইল ফোন ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতারণার শিকার কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের এক নারীকে সৌদি আরব পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে রামপুরায় চক্রের হোতা কামরুলের বাসায় আনা হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে চক্রের সদস্য তোফায়েল ধর্ষণ করে। ওই নারী ফোন করে সহায়তা চাইলে রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি তোফায়েলের গ্রামের আত্মীয়। তার অসহায়ত্বের সুযোগে ধর্ষণের জন্যই সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তোফায়েল গৃহকর্মী হিসেবে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা জানান। এরপর আরবি ভাষা প্রশিক্ষণের কথা বলে ঢাকা এনে আটক রেখে ধর্ষণ করে।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, কামরুলের নামে চট্টগ্রাম কোর্টে চেক জালিয়াতি ও মৌলভীবাজার কোর্টে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা জালিয়াতির মামলা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে ৩৮ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে। কামরুলের অন্যতম সহযোগী জামাল মাহবুব ইন্টারন্যাশনালের সহকারী ব্যবস্থাপক। মাহবুব ইন্টারন্যাশনাল মানব পাচারে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের লাইসেন্স ব্লক ও এক মাস আগে এমডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক মামলার আসামি জামাল পাঁচ বছর ধরে কামরুলের সঙ্গে কাজ করছেন। গ্রেপ্তার খালেদ ২০০১ সালে সৌদি আরব যান। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে মৌলভীবাজারের রাজনগরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে তিনিও কামরুলের সঙ্গী হন। আর তোফায়েলের পেশা ড্রাইভিং। মৌলভীবাজারে তার সিএনজি পার্টস ও ডেকোরেটর ব্যবসা রয়েছে। লাভের আশায় তিনিও কামরুলের অপকর্মের সঙ্গী হন।
র্যাব বলছে, চক্রের হোতা কামরুলের জনশক্তি রপ্তানির কোনো লাইসেন্স নেই। বিভিন্ন ট্যুর ও ট্রাভেলস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে অবৈধভাবে ভ্রমণ ভিসায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকায় বিভিন্ন দেশে লোক পাঠাতেন তিনি। এভাবে পাঁচ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। তাদের ফাঁদে গত ৫ বছরে শতাধিক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব ভুক্তভোগী প্রতিকার চাইলে চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ বন্ধ এমনকি বাসা বদলে ফেলে। এভাবে গত দুই বছর তারা অন্তত আটবার ঠিকানা পরিবর্তন করেছে।
