ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই কৃষিঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ১২:১৪ এএম

যেসব কৃষক স্বল্পমেয়াদে নেওয়া কৃষিঋণ পরিশোধ করতে না পারায় খেলাপি হয়ে পড়েছেন তাদের ঋণগুলো সহজ শর্তে পুনঃতফসিল বা নবায়ন করে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজেই ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করতে পারবে। ক্ষেত্রবিশেষে বিনা ডাউন পেমেন্টেও কৃষিঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। ঋণগুলো পুনঃতফসিলের তারিখ থেকে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কৃষিজ উপকরণের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এর আমদানি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃষি পণ্যগুলোর মূল্য বৃদ্ধি রোধকল্পে এ খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধ সহজতর করা এবং কৃষি খাতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের শর্ত শিথিলের নির্দেশনা দেওয়া হলো। ঋণ পুনঃতফসিলের পর স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণের গ্রাহকদের কোনো অর্থ নতুনভাবে জমা না নিয়েই পুনরায় নতুন ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। এ বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয় সার্কুলারে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সার্টিফিকেট মামলা চলাকালে গ্রাহকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে (সোলেনামা) সার্টিফিকেট মামলা স্থগিত বা নিষ্পত্তি করে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া যাবে। আগে পুনঃতফসিল করা হয়েছে এমন স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণের ক্ষেত্রেও নতুন এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গেই এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা কৃষি খাতে ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আলোচিত সময়ে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার দিক থেকেও চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের প্রবাহ ভালো রয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ব্যাংকগুলোর। সেই হিসাবে আলোচিত আট মাসে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত