ঈদে দর্জি কারিগরদের কাজ বেড়েছে দ্বিগুণ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৪ এএম

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে দর্জি কারিগরদের সপ্তাহের ব্যবধানে কাজ বেড়েছে দ্বিগুণ। কাজের চাপে নতুন অর্ডারও নিচ্ছেন না তারা। অর্ডার নিলেও স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ইসলামপুর, নিউমার্কেট, মৌচাক মার্কেট, ফার্মগেইট এলাকার গিয়ে দোকান মালিক ও কাটিং মাস্টারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের কাপড়ে মনমতো ডিজাইন করে নিতে দর্জির দোকানে মানুষের ভিড়। দোকান মালিক ও কাটিং মাস্টাররা বলছে, প্রতিবছরই শবেবরাতের পর থেকেই শুরু হয় ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের আনাগোনা। দিন ঘনিয়ে আসলে চাপ আরও বাড়ে। কিন্তু এবার পহেলা বৈশাখের পরে দোকানে ক্রেতা বাড়ছে। এখন থেকে শেষের ১০ দিন কাজ থাকলেও নেওয়া যাবে না। সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে না পারলে দোকানের গুডউইল নষ্ট হবে।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার সালিমাবাদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিউ টপ টেন টেইলর্সে শার্ট প্যান্ট বানাতে এসেছে শেখ ফরিদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রেডিমেট কিনলে পোশাকের ফিটিং ঠিকঠাক হয় না। তাই দর্জির দোকানে এসেছি। রেডিমেড পোশাক ক্রয় করলেও ফিটিংয়ের জন্য অনেক সময় দর্জির দোকানে আসা লাগে। এ ঝামেলা এড়াতে আমার পছন্দ করা ডিজাইন দিয়ে প্যান্ট-শার্ট বানাতে এসেছি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার সালিমাবাদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিউ টপ টেন টেইলর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সরুজ ফরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের কাজের চাপ বেড়েছে। এখন আমার কর্মীরা দিনে ২০টা শার্ট ২০টা প্যান্ট বানাতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ আগের মতো পোশাক বানায় না। কারণ পোশাক তৈরি করতে আগে কাপড় কিনতে হয়, তারপর বানাতে হয়। এর ফলে বানানো পোশাকের খরচ পড়ে বেশি। আমরা পোশাক বানানোর ক্ষেত্রে সব সময় ক্রেতাদের প্রাধান্য দিই। অনেকেই এখন মজুরি বেশি নিলেও আমরা মজুরি বেশি নিচ্ছি না।

গুলিস্তানের পিস টেইলর্সের কাটিংমাস্টার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ছেলেদের পোশাক তৈরি করি। শার্ট, প্যান্ট তৈরির সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম। গরমের কারণে এবার স্যুটের চাহিদা কম।

কারখানার কারিগররা জানান, আগের বছরের তুলনায় এ বছরে অনেক ক্রেতা কম। এই মুহূর্তে শার্ট প্যান্টের চাহিদা বেশি। দোকান থেকে আমরা কাটিং মাস্টারদের মাধ্যমে কাপড় কাটিয়ে সেলাইয়ের জন্য কারখানায় পাঠাই। এমন সময় গেছে আমরা সারা রাত জেগে পোশাক তৈরি করেছি। এই ঈদে আমাদের এখনো সেই সময় আসেনি। অর্ডার বুঝে দর্জির দোকানগুলোতে কারিগর রেখে কাজ করানো হয়।

রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের নুরজাহান লেডিস টেইলার্সের কারিগর মো. জয়নাল আবেদিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের কাজ শুরু হয়েছে। করোনাকালে কাজ কমে যাওয়ায় এখন রাজধানীর অনেক বাসা-বাড়িতে সেলাই মেশিন কিনে কাপড় বানানো শুরু করেছে। এখন মেয়েরাও দোকানে পোশাক কম বানায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত