অভিজাত মার্কেটগুলো জমেনি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০২:১৬ এএম

চট্টগ্রামের অভিজাত বিপণিকেন্দ্রগুলোতে এখনো জমে ওঠেনি ঈদের বাজার। করোনার কারণে টানা দুই বছর ঈদ বাজারে মন্দা অবস্থার পর এবার ঈদ মৌসুমে ভালো ব্যবসার আশায় বড় ধরনের পুঁজি খাটিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোজার শেষ দিকে বাজার জমে ওঠার আশায় দিন গুনছেন এখন তারা।

রোজা যতই যাচ্ছে ততই এগিয়ে আসছে ঈদ। সেই হিসেবে ঈদের বাকি দুই সপ্তাহেরও কম। কিন্তু অভিজাত মার্কেটগুলোতে এখনো কেনাকাটার ভিড় চোখে পড়ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম দশ রোজায় মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের পদচারণা খুব একটা ছিল না বললেই চলে। ১৫ রমজানের পর থেকে লোকজন কিছুটা মার্কেটমুখী হচ্ছে। তবে ঈদের সময় যতই এগোচ্ছে ততই ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। আর কয়েক দিন পর পুরোদমে ঈদের বেচাকেনা শুরু হবে বলেই আশাবাদ ব্যবসায়ীদের।

রোজার ঈদে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয় তৈরি পোশাকের। বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ঈদের বাজারে মেয়েদের থ্রি পিস, ছেলেদের পায়জামা-পাঞ্জাবি ও জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদাই থাকে সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, শাড়ি, মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের অলংকারের চাহিদাও থাকে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করেন তৈরি পোশাকে।

নগরীর অভিজাত বিপণিকেন্দ্র সানমার ওশ্যান সিটি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নামিদামি সব ব্র্যান্ডের পোশাকে ভরপুর বিভিন্ন শো-রুমে। শৈল্পিক, মুন ওয়াকার, জেন্টল পার্ক, ক্যাটস আইসহ বিভিন্ন দোকানে থরে থরে সাজানো নানা ডিজাইনের পোশাক।ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য দোকানের সামনে ঝুলানো হয়েছে আকর্ষণীয় সব পোশাক। বিভিন্ন ধরনের পোশাক ছাড়াও এই মার্কেটের আলাদা আলাদা ফ্লোরে রয়েছে জুতা, গহনা, মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার।

মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত আরাস পার্কের বিক্রয়কর্মী আবদুল হান্নান জানান, সানমারে তুলনামূলকভাবে তরুণ-তরুণীরাই কেনাকাটার জন্য বেশি আসে। নতুন নতুন পোশাকের প্রতি বেশি ঝোঁক থাকে তাদের। তিনি জানান, মূলত রোজার শেষ দিকে এসেই মার্কেটে ক্রেতাদের ঢল নামে। এবারও তাই হবে আশা করছি।

সানমার ওশান সিটি মালিক সমিতির সভাপতি আসাদ ইফতেখার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সানমার এমন একটি বিপণিকেন্দ্র যেখানে একজন ক্রেতা চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী সব ধরনের পণ্য কিনতে পারেন। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা পণ্যের মানের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। ক্রেতারা সবসময় ঈদ বাজারে এ মার্কেটকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তিনি জানান, ঈদের কেনাকাটা বলতে যা বোঝায় তা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ২০ রমজানের পর থেকে পুরোদমে বেচাকেনা জমে উঠতে পারে বলে জানান তিনি।

একই অবস্থা দেখা গেছে মিমি সুপার মার্কেট, আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টার, ইউনুসকো সেন্টার, বহদ্দার হাট স্বজন সুপার মার্কেটসহ অন্য মার্কেটগুলোতে। মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান আকবর এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনার কারণে দুই বছর মন্দা পরিস্থিতির পর এবার অনেকটা করোনামুক্ত পরিবেশে ঈদের বেচাকেনা যেমনটি আশা করেছিলাম তেমনটি এখনো হচ্ছে না। তিনি জানান, করোনাকালীন অনলাইন শপিংয়ের প্রতি মানুষ বেশি ঝুঁকেছে। মার্কেটগুলোতে তার একটা প্রভাব রয়েছে। তারপরও আগামী সপ্তাহ থেকে ক্রেতারা পুরোপুরি মার্কেটমুখী হবে বলে আমরা আশাবাদী।

অভিজাত মার্কেটগুলোতে ঈদ বাণিজ্য না জমলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মার্কেট হিসেবে পরিচিত বিপণিকেন্দ্রগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। নগরীর টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে ক্রেতার পদচারণায় মুখর। সকালের দিকে খুব একটা ক্রেতা সমাগম না থাকলেও দুপুরের পর থেকে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। আবার ইফতারের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকছে এসব মার্কেট।

টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মধ্যবিত্ত লোকজনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে টেরিবাজার। এখানে ৮৫টি মার্কেটে ৩০০০ হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। মোটামুটি সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের সমাগম এখানে বেশি হয়। তিনি জানান, যেভাবে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হয়েছে তাতে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। তবে জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার কারণে যদি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্রেতাদের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তাহলে টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত