খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) বার্জ মাউন্টেড পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসা শুরু করে বিদ্যুৎ খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপ। দীর্ঘদিন ভাড়াভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবে বার্জ মাউন্টেডটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে ২০১৮ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। কেন্দ্রটির মেয়াদ বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে এখন তা বিক্রি করে দিচ্ছে কেপিসিএল। পুরনো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেড় কোটি ডলার বা ১২৯ কোটি টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, কেপিসিএলের ১১০ মেগাওয়াট বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্র বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট গ্লোবাল অপারেশন্স এলএলসির সঙ্গে সম্পদ ক্রয় চুক্তি (এপিএ) করেছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি। তবে দেশের বাইরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনঃরপ্তানি করার আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন বা অনাপত্তি নিতে হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
এর আগে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত ১১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক কেপিসিএল-১ বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হলেও বিপিডিবি সেটি গ্রহণ করেনি।
সম্প্রতি বাণিজ্যিক উৎপাদনের বিষয়ে নো-ইলেকট্রিসিটি নো-পেমেন্টের ভিত্তিতে বিপিডিবির আনুষ্ঠানিক সম্মতি পেয়েছে কেপিসিএলের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। কেন্দ্র দুটি হলো খুলনার কেপিসি ইউনিট ২ এর ১১৫ মেগাওয়াট প্ল্যান্ট ও যশোরের নওয়াপাড়া কেপিসি ৪০ মেগাওয়াট প্ল্যান্ট।
এর আগে টানা কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর বিপিডিবির মৌখিক সম্মতি পেয়ে গত ২৪ মার্চ বিকাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছিল কোম্পানিটি। গত বছরের ২৯ মে নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ১ জুন কেপিসি ইউনিট-২ এর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। বিপিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী (পিপিএ) কেন্দ্র দুটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কেপিসিএলকে বিপিডিবির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন বন্ধ করা হয়।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কেপিসিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৫১ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা-পরিচালক বাদে বাকি শেয়ারহোল্ডারদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কেপিসিএল। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২২ টাকা ৭ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪ টাকা ৬০ পয়সা।
২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কেপিসিএল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয় ১৩৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১৩৯ কোটি টাকা। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয় ৩ টাকা ৪০ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৭৭ পয়সায়।
সর্বশেষ রেটিং অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানিটির ঋণমান ‘এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত ও চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ আনুষঙ্গিক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
১৯৯৭ সালে দেশের প্রথম আইপিপি হিসেবে কেপিসিএলের যাত্রা শুরু। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৭৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকের কাছে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল কেপিসিএলের শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা। সমাপনী দর ছিল ৩১ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ২৮ টাকা ৬০ পয়সা ও ৫২ টাকা ৫০ পয়সা।
