বাউফলে শহররক্ষা বাঁধ ঘেঁষে জাহাজ নোঙর

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ০১:০৭ এএম

পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নে শহররক্ষা বাঁধের সঙ্গে নোঙর করা হচ্ছে বড় বড় মালবাহী জাহাজ। এতে বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় জিও ব্যাগ ফেটে এর ভেতর থেকে বালু বেরিয়ে পড়েছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার প্রকল্পটি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট ঘাটের টোল ও দূরত্ব এড়াতে একটি প্রভাবশালী মহল টাকার বিনিময়ে বালু, পাথর ও ইট আনলোড করতে যত্রতত্র জাহাজ নোঙর করার সুযোগ করে দিয়েছেন। শহররক্ষা বাঁধ বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধুলিয়া বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাশের শহররক্ষা বাঁধের সঙ্গে সারি সারি কার্গো জাহাজ নোঙর করা। শ্রমিকরা জাহাজ থেকে ইট, বালু ও পাথর আনলোড করছেন। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০টি জাহাজ বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে নোঙর করে ভারী মালামাল নামানো হয়। নোঙর করার সময় জাহাজের ধাক্কায় বাঁধের জিও ব্যাগ ফেটে বালু নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। আনলোড শ্রমিকদের পায়ের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাঁধটির। এতে নদীতে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জাহাজের ম্যানেজার ও স্থানীয়রা বলেন, ধুলিয়া ইউনিয়নের একটি মহল মোটা অংকের চাঁদার বিনিময়ে বাঁধের মধ্যে বালু-পাথরের লোড জাহাজ আনলোড করার সুযোগ করে দিচ্ছে। জাহাজপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘বাঁধের সঙ্গে জাহাজ নোঙর করায় জিও ব্যাগ ফেটে বালু বের হয়ে যাচ্ছে। এতে স্রোতের সঙ্গে জিও ব্যাগ সরে গিয়ে এর নিচের মাটি আবারও ভাঙতে শুরু করছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ধুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২০২০ সালে ধুলিয়া ও বরিশালের দুর্গাপাশা রক্ষায় একনেকে ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার বাঁধ প্রকল্প পাস হয়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে ওই প্রকল্পের আওতায় নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ধুলিয়া ইউনিয়নের মাঠবাড়িয়া থেকে দুর্গাপাশা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এতে স্বস্তি ফেরে স্থানীয়দের মধ্যে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত