নেই পুলিশের উপস্থিতি, মাঠে শিশুকিশোরদের উল্লাস। তেঁতুলতলা মাঠ যেন ফিরে পেয়েছে সেই চিরচেনা রূপ। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের বিকেলে তেঁতুলতলা মাঠে ক্রিকেট, ফুটবল খেলার পাশাপাশি আড্ডা দিতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন না করে শিশুদের খেলার জন্য রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠটি রক্ষায় কয়েক দিন ধরে এলাকাবাসীর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জোরালো আন্দোলন ও নানামুখী আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে মাঠে আর পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এর আগে গত চার মাস মাঠে নিয়মিত পাহারায় থাকত পুলিশ। প্রতিদিনই অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্য মাঠে পাহারা দিতেন। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে মাঠে এলাকাবাসীর সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয় পুলিশ। প্রায় চার মাস পর তেঁতুলতলা মাঠ আবার জনসাধারণের আড্ডা ও খেলাধুলায় মুখর হয়ে ওঠে।
মাঠ রক্ষা আন্দোলনের নেত্রী সৈয়দা রত্নার মেয়ে নাট্যশিল্পী সেঁউতি শাহগুফতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাঠ ফিরে পেয়ে এলাকার মানুষের মাঝে যেন ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে। সবাই খুবই খুশি। এখন নানামুখী সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং খেলাধুলায় মাঠটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে। যার মধ্য দিয়ে আমাদের প্রজন্ম যেন মানবিক বিকাশের সুস্থ পরিবেশ পায়।’
স্থানীয় অনেকেই জানান, মাঠের পাশে পুলিশ যে দেয়ালটি তুলে দিয়েছে, সেটি ভেঙে দিলে জায়গাটি আগের রূপে ফিরবে। দেয়ালের কারণে জায়গাটিকে আবদ্ধ মনে হয়। তা ছাড়া পুলিশের মালিকানা থেকে মাঠটি সিটি করপোরেশনের মালিকানায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এ জায়গাটিকে আধুনিক মাঠে রূপ দিতে নকশা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘মাঠটিকে যেন আধুনিক মাঠে রূপ দেওয়া যায়, তার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা জরুরি। তা ছাড়া মাঠটি পুলিশ নয়, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত বলে মনে করি।’
গতকাল বিকেলে মাঠে খেলতে আসা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া রায়হান বলে, ‘মাঠের দেয়ালটা থাকার কারণে জায়গাটিকে আরও ছোট মনে হয়। এ দেয়ালটি না থাকলে ভালো লাগবে। আমরা এই মাঠে খেলতে পারছি, খুব ভালো লাগছে। চার মাস ধরে আমাদের খেলতে দেওয়া হয়নি। আন্দোলনের পর থেকে আমরা এখানে খেলছি। মাঠে পুলিশ নেই।’
