মির্জাপুরে বৃদ্ধকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৫ মে ২০২২, ০২:৫৮ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধন রাজবংশী (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া মার্ঝিপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বহুরিয়া মাঝিপাড়া গ্রামের সাধন রাজবংশী ও সুশীল পালের পাশাপাশি বসত ঘর রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। সুশীল পালের চাল ও বাড়ির পানির ঢলের সাধন রাজবংশীর বাড়ির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে সাধনের বসত ঘরের মাটির মেঝে ভেঙে যায়।

সাধন রাজবংশী ও তার ছেলে রিপন রাজবংশী বৃহস্পতিবার সকালে সুশীল পালকে ডেকে বিষয়টি দেখাচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি চলে। এ সময় রিপন রাজবংশী মাতব্বরদের ডাকতে যান।

কথা-কাটাকাটির বিষয়টি জানতে পেরে ঘুম থেকে উঠে এসে সুশীল পালের ছেলে অরি পাল গালিগালাজ করতে করতে সাধন রাজবংশীকে গলা চেপে ধরেন। এ সময় আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে ছাড়াতে ছাড়াতে সাধন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, ওয়ার্ড মেম্বার মো. আব্দুস সামাদ সিকদার ও গ্রামের মাতব্বররা বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। ধার্যকৃত টাকা দিতে না পারায় মীমাংসা করা যায়নি বলে মাতব্বরেরা জানিয়েছেন।

বেলা সাড়ে বারোটার দিকে সাধন রাজবংশীর ছেলে রিপন রাজবংশী মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সাধন রাজবংশীর ছেলে রিপন রাজবংশী ও ভাতিজা বিষ্ণু রাজবংশী বলেন, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায় অরি পাল এসে সাধন রাজবংশীর গলা চেপে ধরেন।

লোকজন ছাড়িয়ে দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মাতব্বরেরা মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে জানান।

বহুরিয়া ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. আব্দুস সামাদ সিকদার বলেন, সাধন রাজবংশীকে গলা টিপে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।

বহুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সামাদ বলেন, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে দুই পরিবারে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় অরি পাল এসে ধাক্কা দিলে সাধন পালের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন। মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত