ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় এস এ হক অলিক পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘গলুই’। শাকিব খান ও পূজা চেরি অভিনীত এই সিনেমাটি সারা দেশের ২৮ টি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এদিকে সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায়। শুটিং দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন লাখো মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই সিনেমাটি দেখার জন্য উদ্গ্রীব ছিলেন জামালপুরের সিনেমাপ্রেমীরা।
এদিকে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আশা সিনেমা হল ব্যতীত অন্য কোথাও কোনো হল না থাকায় ছবিটির পরিচালক এস এ হক অলিক বিভিন্ন অডিটোরিয়ামে ছবিটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে ছিল জামালপুর শিল্পকলা একাডেমির নতুন অডিটোরিয়াম, জামালপুরের মাদারগঞ্জে নুরুন্নাহার মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম ও ইসলামপুরের ফরিদুল হক খান দুলাল অডিটোরিয়াম।
সিনেমাটি দেখতে জামালপুরের সর্বস্তরের মানুষ যখন ভিড় জমাচ্ছিলেন তখনই শোনা গেল অডিটরিয়ামগুলোতে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন জামালপুরের ডিসি মোরশেদা জামান। গত তিন দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে ইসলামপুরের ফরিদুল হক খান দুলাল অডিটোরিয়ামে ছবিটির প্রদর্শনী। অপরদিকে মাদারগঞ্জের নুরুন্নাহার মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আজকের পর থেকে আর ছবিটি চলবে না। যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে জামালপুর শিল্পকলা একাডেমি একাডেমির অডিটোরিয়ামের প্রদর্শনীও।
এ বিষয়ে জানতে বারবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি জামালপুরের ডিসি। তবে শত বছরের পুরোনো একটি আইনের দোহাই দিয়ে এই প্রদর্শনী বন্ধ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কেন বন্ধ করা হচ্ছে ‘গলুই’য়ের প্রদর্শনী? এ বিষয়ে পরিচালক এস এ হক অলিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯১৮ সালের একটি পুরোনো আইনের দোহাই দিয়ে জামালপুরের ডিসি সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দিচ্ছেন। ওই আইনে আছে, সিনেমা হল ব্যতীত অন্য কোথাও বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা প্রদর্শন করা যাবে না। এখন দেখেন একমাত্র মেলান্দহ ছাড়া জামালপুরের আর কোথাও কোনো সিনেমা হল নেই। সিনেমাটি দেখানোর বিকল্প পথ হিসেবে আমরা অডিটরিয়ামগুলোকে বেছে নিয়েছিলাম। যেখানে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সিনেমা শিল্পকে সহায়তা করতে বলেছেন সেখানে জামালপুরের ডিসির এমন নির্দেশনায় আমরা সত্যিই হতবাক হয়েছি। ডিসির এমন অসহযোগিতা কাম্য নয়।’
গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘গলুই’। এতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি সহজ-সরল প্রেম কাহিনি। এতে শাকিব অভিনয় করেছেন লালু চরিত্রে, আর পূজা আছেন মালার ভূমিকায়। তাদের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, সুচরিতা, আলী রাজ, সমু চৌধুরী প্রমুখ। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সিনেমাটির সহ-প্রযোজনায় আছেন খোরশেদ আলম খসরু।
