ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে গ্রেপ্তার করা যাবে না

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১২:৫২ এএম

ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি প্রথম চালু হয় ১৮৭০ সালে। স্বাধীন হওয়ার ৭৫ বছর পরও বিতর্কিত আইনটি চালু আছে সেখানে। গতকাল বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই আইন খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। যত দিন পর্যন্ত আইনের পর্যালোচনা চলবে, তত দিন নতুন করে কাউকে এই আইন প্রয়োগ করে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

শুধু তা-ই নয়, যারা এই আইনে করা মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, তারা জামিনের আবেদন করতে পারবেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও এখন স্থগিত থাকবে। নতুন করে এই আইনে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, ৮০০টি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ১৩ হাজার লোক জেলে আছেন।

ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলার সংখ্যা ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে ৯৬ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়, তার মধ্যে দুজনের শাস্তি হয়েছে। গ্রেপ্তার ৯৬ জনের মধ্যে ৫৫ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ওই বছর কর্নাটকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তালিকায় এর পরে আসাম, জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর প্রদেশ।

ব্রিটিশ ভারতে ১৮৬২ সালে দণ্ডবিধি চালু হয়। তখন সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহ নিয়ে কোনো সেকশন চালু ছিল না। ১৮৭০ সালে ধারাটি যুক্ত হয়। বালগঙ্গাধর তিলককে প্রথম এই ধারা অনুসারে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মহাত্মা গান্ধীকেও ইয়ং ইন্ডিয়ার লেখার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন ছিল, রাষ্ট্রদ্রোহের যেসব মামলা চলছে, সেগুলোকে থামিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। কারণ, এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, টাকা নয়ছয় ও অর্থ বিদেশে পাঠানোর ঘটনা জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু সরকারের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, যত দিন তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন, আইন পর্যালোচনা করবেন, তত দিন এই আইন প্রয়োগ করে নতুন করে কোনো মামলা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত