ফ্ল্যাটে থেকে শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ০২:৩২ এএম

খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে। দেশের বেশ কিছু জায়গায় হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স। অথচ রাজধানী ঢাকায় নেই পর্যাপ্ত খেলার জায়গা। এই না থাকাটা ভাবাচ্ছে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। চার দেয়ালে আটকে গেছে রাজধানীর শিশুদের শৈশব। বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল, ল্যাপটপে। তাতে যেমন শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, থমকে যাচ্ছে মানসিক বিকাশও। প্রধানমন্ত্রী এ শহরের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কা প্রকাশ করে অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন সন্তানদের মাঠমুখী করতে।

গতকাল নগরীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো ঢাকা শহরেই খেলাধুলার জায়গা কম। আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি যাতে প্রতিটি এলাকায় একটি করে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হয়। আমাদের শিশুরা তো ফ্ল্যাটে বাস করে। ফ্ল্যাটে বাস করে ওরা ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বেশিরভাগ শিশু প্রায় সময় ফ্ল্যাটে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং আইপ্যাড নিয়ে সময় কাটাচ্ছে; যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমি সকল অভিভাবকের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা আপনাদের শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী হবেন। তাহলে শিশুরা আর ভুল পথে যাবে না। প্রত্যেকটি এলাকায় খেলার মাঠ থাকা উচিত।’

পুরো ৮ বছরের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার কাল তুলে দেওয়া হয়েছে ৮৫ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে। এই পুরস্কার অনিয়মিত হয়ে পড়াটা পছন্দ নয় প্রধানমন্ত্রীর। তাই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে প্রতি বছর জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিশ্ব মঞ্চে ক্রীড়াবিদরা ধীরে ধীরে সাফল্য পাওয়ার প্রশংসা করেন তিনি। অন্যান্য খেলার পাশাপাশি গ্রামীণ খেলাধুলার প্রচলন বাড়ানোর এবং বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের খেলার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন, ‘আমাদের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, সাঁতার, হকিসহ বিভিন্ন খেলার পাশাপাশি দেশীয় খেলাগুলো যেমন ডাংগুলি, সাতচারা, গোল্লাছুট থেকে শুরু করে হাডুডুসহ যেসব খেলার প্রচলিত ছিল, সেগুলো আবার চালু করতে হবে। আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। যেটা আমরা ফুটবলের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা শুরু করেছি। ফলে আমাদের অনেক নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা জাতীয় পর্যায়েও বিশেষ অবদান রাখছে। কাজেই এদিকে সকলে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।’ এ ব্যাপারে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এ খেলাধুলার বিষয়ে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চ থেকে নিয়মিত সাফল্য বয়ে আনছে। তাদের খেলার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিতে যেখানে খালি জায়গা পাচ্ছি খেলার মাঠ করে দিচ্ছি। সংসদ ভবনের পাশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের খেলাধুলার জন্য একটা অ্যাকাডেমিও নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠনের পর বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের অলিম্পিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে। আমেরিকা থেকে তারা ৭২টি পদক জয় করে আনে।’

প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের কথা স্মরণ করেন। ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ক্রীড়াক্ষেত্রেই আমাদের নারীদের সাফল্য উল্লেখ করে তিনি নারীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল দেশের একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রীড়াবিদ এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কক্সবাজারে দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা উল্লেখ করে ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোকে মাল্টিপারপাস ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখা ক্রীড়াবিদদের জন্য জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। এটা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, সেই প্রকল্প বর্তমান সরকার শুরু করেছে। তাতে দুস্থ ও সমস্যাগ্রস্ত ক্রীড়াবিদদের সাধ্যমতো সহায়তা দেওয়ার সুযোগ বেড়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সরকারে থাকবেন, দুস্থ ও অসুস্থ খেলোয়াড়দের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবেন।

গতকাল সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাওয়া সাফল্যগুলো উঠে এসেছিল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। যার বেশিটা জুড়েই ছিল ক্রিকেট। এছাড়া ঠাঁই পেয়েছে আরচারি ও মহিলা ফুটবলারদের কীর্তিও। তবে একটি বারের জন্যও ছেলেদের ফুটবলের প্রশংসা শোনা যায়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফুটবল সংশ্লিষ্টদের জন্য এ বড় হতাশার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত