ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য শুরু ১ জুলাই

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১২:৫৯ এএম

ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য শুরু হবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) আওতায় ভুটানের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ওই দিন থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার সম্মতি দিয়েছে।

১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে এবং ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ভুটানের এসব পণ্যের মধ্যে নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত পাথরও রয়েছে। আর শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাথর আমদানি করা হলে দেশের নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় হ্রাস পাবে। নির্মাণ খাতের জন্য সহায়ক হবে। স্বল্পমূল্যে আমদানি করা যাবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের কাঁচামালও।

বাংলাদেশ থেকে ভুটানে রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, প্লাস্টিক, ওষুধ, গৃহসজ্জাসামগ্রী, বৈদ্যুতিক পণ্য। ভুটান থেকে সবজি, ফলমূল, খনিজদ্রব্য, নির্মাণসামগ্রী বোল্ডার পাথর, পাল্প ও রাসায়নিক আমদানি করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই হয়েছে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর। নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও ভুটানের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী লোকনাথ শার্মা। বাংলাদেশের সব প্রস্তুতি থাকলেও কার্যক্রম শুরুর জন্য ভুটানের সংসদে ২০২১ সালের ষষ্ঠ অধিবেশনে অনুমোদন করে অভ্যন্তরীণ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে দেশটি।

২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন জানিয়ে ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বাংলাদেশকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য শুরুর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। তারা আশা করছেন, আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরু করবে বাংলাদেশ ও ভুটান।

২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপিল মাসে ভুটানে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ ২০১০ সাল থেকে ভুটানকে ১৮টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। আর বাংলাদেশের ৯৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে ভুটানের বাজারে। ভুটান আরও কয়েকটি পণ্যেও শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

২০১৯ সালের ১২-১৫ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বাংলাদেশ সফরে এলেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২১ থেকে ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রথম বৈঠক হয়। এরপর ২০২০ সালের ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় বৈঠক। এসব বৈঠকের পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। ৪৯ বছর পর সেই ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাজার সম্প্রসারণের চুক্তি সই করে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত