নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

ট্রাস্টিদের নামে কেনা গাড়ি বিক্রির নির্দেশ

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ০১:১৫ এএম

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিলাসবহুল ১০টি গাড়ি বিক্রি করে সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নেই ব্যয় করার কথা। কিন্তু নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় তা না করে একের পর এক অনিয়ম করে চলেছে। সর্বশেষ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের জন্য কিনেছে বিলাসবহুল গাড়ি। এসব গাড়ির মধ্যে বেশিরভাগই ২০১৯ সালের মডেলের রেঞ্জ রোভার ও মার্সিডিজ বেঞ্জ। যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কেনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এসব গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে ব্যয়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে জমা রাখতে বলেছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে জানাতে বলেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৪৪(১) অনুযায়ী, প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ তহবিল থাকবে এবং ৪৪(৭) ধারা অনুযায়ী সাধারণ তহবিলের অর্থ উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয় ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না। তবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় না করে জানুয়ারি ২০১৯ হতে জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত ১২টি গাড়ি কেনে। যার মধ্যে ১০টি বিলাসবহুল। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র জানায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনা ১০ বিলাসবহুল গাড়ি হলো পাঁচটি রেঞ্জ রোভার ভোগ পি ৪০০ ই, যার চারটির মূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করে এবং একটির দাম ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একটি কার (স্যালুন) মার্সিডিজ বেঞ্জ, যার দাম ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তিনটি রেঞ্জ রোভার অটোবায়োগ্রাফি, যার প্রতিটির দাম ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং একটি টয়েটা প্রাডো টি এক্স। যার দাম ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্থিক কেলেঙ্কারিতে দুদকের এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবিতে মানববন্ধন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস বলেন, ‘নর্থ সাউথের কিছু ব্যক্তির কারণে পরিণত হয়েছে দুর্নীতি-অনিয়ম ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে। দুদকের মামলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিযুক্তদের ঠিক কী কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অভিযুক্ত প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী। তারা যেন বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৫ মে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিমউদ্দিন ও চার সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার আসামিরা হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিমউদ্দিন আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এমএ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত