এক নারী চাকরি ছাড়ায় অচল শহর!

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ০১:৫৭ এএম

করোনা মহামারী শুরুর দিকে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক দিক বিবেচনা করে কর্মী ছাঁটাই করেছে। অনেকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে চাকরি ছেড়েছেন। ফলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে থাকায় কর্মী সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো। মাত্র এক নারী কর্মী চাকরি ছাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহর কর্র্তৃপক্ষ চরম বিপাকে পড়ে।

এনডিটিভি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের পাসাদামকেগ শহরে ছুটি না পেয়ে চাকরি ছাড়েন ক্রিস্টেন বুচার্ড নামে সাধারণ এক কেরানি। তাতেই সব কাজ বন্ধ হয়ে অচল হয়ে গেছে শহর। বিপাকে পড়েছে শহর কর্র্তৃপক্ষ।

ক্রিস্টেন বুচার্ড ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাসাদামকেগ শহরের কেরানি হিসেবে নিয়োগ পান। এই নারীর প্রথম দায়িত্ব ছিল ওই বছরের নভেম্বরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা। এ কারণে তাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পড়ে ক্রিস্টেন বুচার্ডের ওপর। তাকে উপ-কোষাধ্যক্ষ, পোষা প্রাণীর সনদ দেওয়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ, যানবাহন নিবন্ধন এবং অঙ্গরাজ্যের অভ্যন্তরীণ মৎস্য ও বন্যপ্রাণী বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এতসব কাজের চাপে ক্রিস্টেন বুচার্ডের ছুটি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে গত মাসের শুরুর দিকে তিনি কর্র্তৃপক্ষের কাছে দুই সপ্তাহের ছুটি চেয়ে আবেদন করেন। তার অনুপস্থিতিতে শহরের এতসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার কোনো কর্মী না থাকায় কর্র্তৃপক্ষ ছুটি মঞ্জুর করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন ক্রিস্টেন বুচার্ড। তিনি চলে যেতেই পাসাদামকেগ শহরের সরকারি সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শহরের কোন নথি কোথায় আছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কেউ কোনো প্রাণীর প্রতি নির্যাতন চালালে সমাধান হচ্ছে না, যানবাহনের সনদ দেওয়া বন্ধ। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে শহরটি।

শহর কর্র্তৃপক্ষ গত ১৯ এপ্রিল জানিয়েছে, অফিসে ক্রিস্টেন বুচার্ডের দায়িত্ব পালন করার মতো কোনো কর্মী নেই। তার মতো একজন কর্মী না পাওয়া পর্যন্ত সরাসরি অফিস বন্ধ থাকবে।

আপাতত কোষাধ্যক্ষ বারবারা বয়ার সপ্তাহে কয়েক দিন অফিসে আসছেন। কিন্তু তিনি যানবাহনের নিবন্ধনসহ অন্যান্য একাধিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ কারণে এখনো শহরটি সচল হয়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়ে শহর কর্র্তৃপক্ষ ওই পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত