বিয়েবিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ায় সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০১:৫৬ এএম

দেশে বিগত কয়েক বছর ধরে বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এটি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি। 

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিয়েবিচ্ছেদ কমিয়ে আনতে কাউন্সেলিংসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কমিটি। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, “আমরা এর আগে ‘আমার ঘর আমার ফুলবাগান’ নামে একটি কর্মসূচির কথা ভেবেছিলাম। এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। যাতে পরিবারগুলো সুরিক্ষত হয়।”

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি লুৎফুন নেসা খান বিয়েবিচ্ছেদের বিষয়টি উত্থাপন করেন। বিয়েবিচ্ছেদের জন্য মাদককে দায়ী করেন এই এমপি।

এর আগের বৈঠকে সংসদ সদস্য শবনম জাহান বলেন, ‘বর্তমান সমাজে বিয়েবিচ্ছেদ খুব সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।’ ওই বৈঠকে বিয়েবিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সুপারিশ আসেনি। তবে গতকালের বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক সম্পর্কে লুৎফুন নেসা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি বিয়েবিচ্ছেদের জন্য ড্রাগস, পরকীয়া ও আকাশ সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতিকে দায়ী করেন। সোশ্যাল মিডিয়া ফেইসবুক ও টিকটকের কারণে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং একই কারণে পরকীয়া বেড়ে গেছে বলেও মনে করেন তিনি। 

লুৎফুন নেসা বলেন, ‘এখন দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় ব্যয় করেন। স্বামী-স্ত্রী নিজেরা নিজেদের সময় না দিয়ে অন্য নারী বা পুরুষের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। এভাবে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং একসময় সংসার ভেঙে যায়।’ তিনি টিকটক বা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ না করে এতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুপারিশ করেন।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশে বিয়েবিচ্ছেদের সংখ্যা কমানো ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কর্মজীবী দম্পতি নিয়ে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প আকারে, বিশ্লেষণধর্মী কাজ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া বৈঠকে দেশের কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলগুলো ভাড়ায় পরিচালনার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক (পাহাড়ি এলাকা, নদীভাঙন এলাকা, কলকারখানা ও জনসংখ্যা মোতাবেক) নীতিমালা পরিবর্তনক্রমে প্রণয়নেরও সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ফজিলাতুন নেসা, শবনম জাহান, লুৎফুন নেসা খান, সাহাদারা মান্নান এবং কানিজ ফাতেমা আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত