উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। গত কয়েক দিন ধরেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। জেগে উঠতে শুরু করেছে প্লাবিত হওয়া অঞ্চলও। তবে বানের পানি নামতে শুরু করলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমেনি। বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া লাখো মানুষের ঘরে খাবার নেই, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যার্ত লাখো মানুষ এখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরে খাবার নেই, আবার কাজও নেই। এ অবস্থায় অনেকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, ত্রাণের কোনো অভাব নেই। সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দিচ্ছে। কেউ অনাহারে থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা আছে। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সিলেট নগরী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পেতে অধীর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে বন্যাপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সংকট নিরসনে গতকাল জরুরি সভা করেছে সিটি করপোরেশনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। নগরভবনে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন, সিলেট-১ (সদর) আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
সভায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাসা-বাড়ির তালিকা প্রণয়ন করে সহায়তা প্রদান এবং নগরীকে বন্যামুক্ত রাখতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এদিকে ৭ দিন পর সুনামগঞ্জের বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কমতে শুরু করেছে সুরমা নদীর পানি। তবে নদীর পানি কমলেও এখনো ভোগান্তিতে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।
বন্যায় প্লাবিত সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দুর্ভোগ দ্বিগুণ বেড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অভিযোগ রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন ত্রাণ না পাওয়ার। এ ছাড়া অনেকে বাড়িঘরে পানি থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। পাচ্ছেন না কোনো সহায়তা। আবার অনেকে পানি থাকায় এখনই যেতে পারছেন না বাড়ি-ঘরে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জেলার সকল উপজেলা পানিবন্দি মানুষদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় ১৬৫ টন জিআর চাল আর নগদ ১২ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার বস্তা শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে সহায়তা করা হবে। পানিবন্দি কেউই সহায়তার বাইরে থাকবে না।
