বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়া ও চীনের উত্থান ঠেকাতে এখন সবচেয়ে বেশি মরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি এতটাই মরিয়া যে ইউক্রেনে একদিকে দেদার সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছেন, আবার চীনের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়েও কাজ করছেন। রাশিয়া ও চীনকে শত্রু হিসেবে সামনে রেখে মিত্র বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বাইডেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বাইডেনের জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে। দেশের বাইরে বাইডেন কর্র্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ক্রসেড ঘোষণা করলেও দেশের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে হাজারো সমস্যা। সম্প্রতি সিএনএন এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে যে, বাইডেন এবার নিজের ঘর সামলাতে পারবেন তো?
আগামী বছরই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভোটাভুটি হবে। দেশটির কথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ভোটকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হয়। ক্ষমতায় বসার পর বাইডেন মিত্রদের বাণিজ্য দেওয়ার নামে নিজের দেশের উৎপাদকদের বঞ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি জাপান সফরকালে তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নতুন বাণিজ্য কাঠামোও ঘোষণা করেছেন। এই কাঠামোতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের পণ্যের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। এতে ওই দেশগুলো লাভবান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে লাভ সামান্যই। অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইডেন বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে নিজের মিত্র বাড়াতে চাইছেন রাশিয়া ও চীন বিরোধিতার জায়গা থেকে।
বাইডেনের সামনে এখন সীমান্তে অভিবাসী সমস্যা প্রকট রূপ নিয়েছে। এছাড়া আছে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। এ দুই সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির বন্দুক সংস্কৃতি। সাবওয়ে, সুপারমার্কেট, স্যালুনসহ স্কুলে পর্যন্ত বন্দুক হামলা ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাইডেনকে কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে সুবিধা পাচ্ছে রিপাবলিকান শিবির, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রাইমারিতে যে ডেমোক্র্যাটরা বাইডেনকে ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করেছিলেন, তাদের অনেকেই আগামী বছর কংগ্রেসের নির্বাচনে বাইডেনকে সঙ্গ নাও দিতে পারেন। এমনটা হলে নড়বড়ে হয়ে যাবে বাইডেন প্রশাসন।
জর্জিয়ার গভর্নর নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাইডেন। গত নির্বাচনে জর্জিয়া নিয়ে হওয়া ব্যাপক নাটকীয়তাকে কেন্দ্র করে বাইডেন চেয়েছিলেন সহজ সমাধান। কিন্তু সমাধান সহজ হওয়ার বদলে আরও কঠিন হয়েছে। ওই রাজ্যের গভর্নর ব্রেইন কেম্প ও সেক্রেটারি অব স্টেট ব্রাড রাফেনসপার্জার তাদের অবস্থান থেকে নড়ছেন না। ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী সাবেক সিনেটর ডেভিড পুর্দেও এগিয়ে আছেন। এখন দেখার বিষয় জর্জিয়াতে রিপাবলিকান প্রাইমারি ভোটাররা কোন দিকে যান। এই রাজ্যের পরেই আছে আইডাহো ও নেব্রাস্কার নির্বাচন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দেশটি নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে যায়নি। এটা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যেহেতু সমরাস্ত্র ও ব্যাংক-বীমানির্ভর; তাই যুদ্ধ ছাড়া দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা হয় না। সাবেক ডেমোক্র্যাটদের মতো বাইডেনকেও যুদ্ধ বাধিয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনকে ব্যাপক মাত্রায় সামরিক সহায়তা দেওয়া ছাড়াও সম্প্রতি বাইডেন বলেছেন, চীন যদি তাইওয়ানে কোনো হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের পাশে সামরিকভাবে থাকবে। বাইডেনের এমন উক্তি সম্পষ্টতই নতুন যুদ্ধের আলামত। উসকানি দিয়ে চীনকে যুদ্ধে নামানোর পাঁয়তারা।
