সাকিব-লিটনের ব্যাটে আশা জাগিয়েও হার

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ০২:২৮ এএম

দুই ইনিংসের শুরুতে যখন ২৪/৫ ও ২৩/৪-এর দেখা মেলে সেই টেস্টে ভালো ফল আশা করাই বৃথা। তবুও মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ গড়াল শেষ দিনে। এদিনও ম্যাচ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশেরই। দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমের ফিরে যাওয়া যতটা হতাশ করে, সাকিব-লিটনের শতরানের জুটি ততটাই আশা জাগায়। কিন্তু সে পর্যন্তই, বরাবরের মতো আশার বেলুন ফুটিয়ে আরও একটি হার বাংলাদেশের। লঙ্কার দেওয়া ১৪১ রানের লিড টপকে ২৮ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। বিনা উইকেটে ২৯ রান করে সহজেই ১০ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। সুবাদে ১-০তে সিরিজও পেয়ে যায়। তাই ২০১৩ সালের পর ছয় সিরিজে পঞ্চমবার ১-০তে হারল বাংলাদেশ। এই সময়ে মাত্র একটি, ২০১৭ সালের সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছিল।

অথচ এই টেস্টে আরও ভালো কিছু পেত বাংলাদেশ। হতাশায় ঢাকা দুটি ইনিংসের শুরু যদি না থাকত। প্রথম ইনিংসে ৫ ব্যাটার আর দ্বিতীয়টিতে ৪, মোট ৯ জনের থেকে দুই ইনিংসে কমপক্ষে ১০০ রান করেও এলে ম্যাচের ফলটাই ভিন্ন হতো। ব্যাটারদের এই ব্যর্থতার কারণ কি তা কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নিজেও জানেন না। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অসহায়ের মতো বললেন, ‘এমন কেন হলো এর উত্তর যদি আমরা জানতাম তাহলে তো এ রকম ধস হতো না। দুই ইনিংসে ওই রকম ব্যর্থ হয়ে আর যাই হোক টেস্ট জয়ের চিন্তা করা যায় না। গত ৬-৭ মাস ধরে বারবার এমন হচ্ছে, কেন হচ্ছে জানি না, তবে এটা থামানো উচিত। এগুলো নিয়ে অবশ্যই কাজ করা উচিত।’ তবে কিছু কারণ সামনে এনেছেন ডমিঙ্গো। তার মতে ওই বিষয়গুলো নিজেদের পক্ষে এলে বা করতে পারলে ফলটা অন্যরকম হতো, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও মন খারাপ করার মতো। কিন্তু ক্রিকেটাররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। এক-দুটি সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে আসেনি, সমানসংখ্যক রিভিউ মিস করেছি। আমরা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষদিকে ও তৃতীয় দিন ভালো বল করতে পারিনি। ওদের ওপর যথেষ্ট চাপ দিতে পারিনি। উইকেটের দোষ দেব না, এটা খুবই ভালো উইকেট ছিল। এখন আমি নিজে গিয়ে মাঠে ক্রিকেটারদের তো কিছু বলতে পারি না। এ ব্যাপারে ওদের বকাঝকাও করতে পারি না। আমাকে ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে যেন উইন্ডিজে ভালো করি।’

পঞ্চম দিন তিন ঘণ্টা ব্যাট করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তার আগে মুশফিক-লিটনকে দেখতে চেয়েছিলেন লাঞ্চ পর্যন্ত অপরাজিত। দ্বিতীয়টি বিফলে গেলেও নিজের লক্ষ্যটা ৭২ বলে ৫৮ করে অনেকটাই পূরণ করতে পরেছেন সাকিব। ৩১ ওভারের মতো ক্রিজে থেকে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ২৭তম টেস্ট ফিফটি। সুবাদে লিটনের সঙ্গে প্রথম শতরানের জুটিও গড়লেন। লিটন ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি তোলেন ১৩৫ বলে ৫২ রান করে। এই ইনিংস দিয়ে টেস্টে নিজের দুই হাজার রানও পূর্ণ করেন। দুজনে অবিচ্ছিন্ন থেকে লাঞ্চে যান। তখনো বাংলাদেশের স্বস্তি ছিল, ছিল টেস্ট ড্রয়ের স্বপ্ন। কিন্তু লাঞ্চের পর ১০৩ রানের এ জুটি ভাঙতেই বাংলাদেশের লড়াইও যেন শেষ হয়।

দিনের শুরুতে উইকেট হারানোর ভয় নিয়েই ৮টি ওভার কাটে। এরপর রাজিথার নিচু বলে ২৩ রানে বোল্ড হয়ে মুশফিকের বিদায়। সাকিব-লিটনের জুটিটা না হলে আরও দ্রুত অলআউট হতো বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা মোসাদ্দেক ৯ রানে ফিরে গিয়ে প্রমাণ দেন টেস্টের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না মোটেও। পরের দিকে তাইজুল ও খালেদ পরপর দুই বলে ফেরেন। খালেদের শূন্য রানে এক ম্যাচে ৯ ‘ডাক’-এর লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখাল বাংলাদেশ। এর আগে এক টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শূন্য ছিল ৮টি ২০১৮ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে। এবার ৯ শূন্যতে ১৯৯০ সালের শ্রীলঙ্কা ও ২০০০ সালের উইন্ডিজের পাশে বসল বাংলাদেশ। এছাড়া পরপর তাইজুল ও খালেদকে আউট করে টেস্ট হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা ধরে রাখলেন আসিথা ফার্নান্দো। ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এ পেসার ক্যারিয়ারে প্রথমবার টেস্টে ১০ উইকেট নিলেন। এতে চামিন্দা ভাসের পর দ্বিতীয় লঙ্কান পেসার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেটের কীর্তি গড়লেন ৫ টেস্ট খেলা আসিথা।

দিনশেষে চিরায়ত নিয়মে হারের হতাশায় প্রাপ্তির খোঁজ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ডমিঙ্গো তা-ই করলেন। কিছু সেশন জয়, ম্যাচে ফেরা, মুশফিক-লিটন-সাকিবের পারফরম্যান্সের পাপ্তি নিয়ে হতাশা কাটাতে হলো। পরের সিরিজ উইন্ডিজে। যেখানে ২০১৮ সালে সবশেষ সফরে টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অল আউটের লজ্জা মিলেছে। তবুও ভয় কাটিয়ে আশার বেলুন ফোলাতে হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত