বিখ্যাত ইংরেজ কবি টিএস এলিয়টের জন্য ‘এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস’ হতে পারে। ইউর্গেন ক্লপ কবি নন; ফুটবল কোচ।তার জীবন কাটে মাঠে ঘুরে ঘুরে। এলিয়টের মতো করে তিনি বলতে পারবেন না, মে মাস তাকে কতটা আশাহত করেছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’টি প্রধান শিরোপার নিশ্বাস দূরত্বে গিয়ে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে লিভারপুল কোচকে। গত রবিবার প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে উলভসের বিপক্ষে জেতার পরও নিশ্চুপে মাঠ ছাড়তে হয়েছে অলরেডদের। তাদের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ জিতে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি।
এবার তাদের ফের হতাশ হতে হলো রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। শনিবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রতিশোধ নিতে নেমে উল্টো ১-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগ হারিয়ে আগেই কোয়াড্রপল স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে ক্লপকে। এবার হাতছাড়া হলো ট্রেবল জয়ও। ঘরোয়া ডাবল— লিগ কাপ ও এফএ কাপ নিয়ে মৌসুম শেষ করল লিভারপুল।
তবে রিয়ালের কাছে ফের হারলেও ভেঙে পড়ছেন না অ্যানফিল্ডের কোচ। উল্টো যেন চাঙা হয়ে উঠেছেন ক্লপ। ইস্তাম্বুলে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের জন্যও লিভারপুল সমর্থকদের আগে থেকে ‘হোটেল বুকিং’ দিতে বলেছেন তিনি।
ক্লপের এমন আহ্বান অবশ্য অমূলক নয়। তার প্রমাণ ইতোমধ্যে অলরেড সমর্থকেরা পেয়েছেন। ২০১৮ সালে কিয়েভের ফাইনালে রিয়ালের বিপক্ষে হেরেছিল লিভারপুল। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ায় ক্লপের দল। মাদ্রিদে অল ইংলিশ ফাইনালে টটেনহামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লিভারপুল।
এবার প্যারিসে রিয়ালের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিতে পারলে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ ঘরে তুলতে পারত তারা। কিন্তু এবারও রিয়াল বাধা টপকাতে পারল না ক্লপের দল। তবে এই হার থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। ফের ফাইনাল খেলার প্রত্যয় জার্মান কোচের কণ্ঠে, ‘আমার প্রবল অনুভূতি, আমরা আবার ফাইনাল খেলব। ছেলেরা প্রতিযোগিতা পছন্দ করে। পরের মৌসুমের জন্য আমাদের অসাধারণ এক দল হবে।’
এরপরই সমর্থকদের পরের মৌসুমের ফাইনাল দেখার আহ্বান জানালেন ক্লপ, ‘পরের মৌসুমের ফাইনাল কোথায়? ইস্তাম্বুলে? হোটেল বুক দেন।’
