প্রখ্যাত পণ্ডিত যুবাল নোয়াহ হারারির অভিমত বর্তমান শতাব্দীর আগ পর্যন্ত মানুষের অস্তিত্ব ও দীর্ঘায়ুর প্রধান শত্রু ছিল তিনটি; যুদ্ধ, মহামারী ও দুর্ভিক্ষ। সময় বদলে গেছে। এখন আর এসব কারণ মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ নয়; বিবর্তনের অপরিহার্য ধারায় সেসবে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে অনেক গ্রন্থে তার এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইতিহাসও তার এ বক্তব্যের পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু আবার এখন দেখছি যে, হারারির তত্ত্ব মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। মহামারী, যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ আবার প্রত্যাবর্তন করছে; এগুলো বিশ্বব্যাপী মানুষের অপুষ্টি, অনাহার, দুর্দশা ও মৃত্যুর কারণ হয়ে গেছে, অস্তিত্বের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা এখন মাথাব্যথার কারণ।
অতিমারী কভিড শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালের জুন মাস থেকে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির অভিযাত্রা। এর আগেও দুনিয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষের কমতি ছিল না; বরং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। এ সময় তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০০ মিলিয়নের বেশি। এর প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়াজনিত দুর্বিপাক, পোকামাকড়ের আক্রমণ, খাদ্যশস্যের রোগবালাই, বৈষম্য প্রভৃতি। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার হুমকি ও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। পৃথিবীতে অন্তত ৩৫ শতাংশ মানুষ প্রধান খাদ্য হিসেবে গমের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে যত গম ও সূর্যমুখী তেল কেনাকাটা হয়, রাশিয়া ও ইউক্রেন মিলে যথাক্রমে তার প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশের জোগান দিয়ে থাকে। ভুট্টা রপ্তানিতেও এ দুটি দেশের অবস্থান ওপরের দিকে। রাসায়নিক সার পটাশ রপ্তানিতে রাশিয়া এবং বেলারুশের অংশ বিশ্বে ৪০ শতাংশ। ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার গ্যাস ও জ্বালানির ভূমিকার কথা সবাই জানেন। সংগত কারণেই ইউরোপের ‘ব্রেড বাস্কেট’ হিসেবে খ্যাত প্রাচুর্যপূর্ণ এই ভাণ্ডার এখন সবার অগম্য। বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্য ও লভ্যতায় এই অনধিগম্যের প্রভাব আজ নগ্নভাবে দৃশ্যমান। ২০২০ সালের মার্চ মাসে শক্ত লাল শীতকালীন গমের গড় মূল্য ছিল প্রতি টন ২০৯.০৭ মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের একই মাসে ওই মূল্য দাঁড়ায় ২৭৩.১৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে এ মূল্য উঠে যায় ৪৮৬.৩০ ডলারে, এপ্রিল মাসে এই গমের দর ৪৯৫.২৮ ডলার (IndexMundi)। এর প্রভাবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্র্তৃক প্রণীত বিশ্ব খাদ্য মূল্যসূচক গত মার্চ মাসে ১৫৯.৭ মূল্যমান নিয়ে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে যায়। সেই সঙ্গে ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল, ভুট্টা, বার্লিসহ শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যমপর্যায়ের নানা মালামালের মূল্য বেড়ে আকাশচুম্বী হয়ে যায়। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে এই মনুষ্য-সৃষ্ট সংকটের প্রভাব প্রথমে বেশি অনুভূত হতে দেখা যায়। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে অতিমারীর মতো মুদ্রাস্ফীতিও অতি অল্প সময়ে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও প্রবেশাধিকার লাভ করে। ফলে সেখানকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আয়ে ক্ষরণ শুরু হয়, পরিণতিতে তাদের একাংশ ক্ষুধার শিকার হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম না।
বাংলাদেশ এখন মুক্তবিশ্বের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এর অর্থনীতি এখন বেশ বড়, রপ্তানি আয়ও ক্রমবর্ধমান। কিন্তু রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে যেসব কাঁচামালের প্রয়োজন হয়, তার সিংহভাগ আমদানি করতে হয়। আবার দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বা সমুন্নত রাখতে সার আমদানি করতে হয়, নিয়মিতভাবে আমদানি করার প্রয়োজন হয় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন গম। যুদ্ধে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজার অস্থির ও উদ্বায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু দেশ জ্বালানির প্রয়োজন মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে কি কাঁচা মাল, কি উৎপাদিত পণ্য সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। রপ্তানি বাড়াতে কাঁচামাল ও মধ্যমপর্যায়ের সামগ্রী আমদানি করা ছাড়া কোনো বিকল্পও নেই। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা শুধু পণ্য আমদানিই করছি না, মূল্যস্ফীতিও আমদানি করে চলেছি। এখন আমদানি ও রপ্তানি দুটোই বেড়ে গেছে, তবে প্রথমোক্তটার হার বেশ বেশি। আর আমদানিপণ্যের মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায় আমদানি ও রপ্তানি করা পণ্যের মূল্যের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে এবং চলতি হিসাবে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই প্রবণতা দেখে অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন, বছর শেষে চলতি হিসাবে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি হয়ে যেতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি উপাদান রয়েছে; লভ্যতা, খাদ্যগ্রহণের ক্ষমতা ও খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার। বর্তমানে খাদ্যমূল্যের স্থিতিশীলতাকেও এর অন্যতম উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশের সব মানুষের জন্য সে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রীর প্রয়োজন হয়, তার পর্যাপ্ততাকে লভ্যতা বলা হয়। উৎপাদন ও আমদানি দ্বারা এটা অর্জন করা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারপর্যায়ে খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। এর জন্য মালিকানা, উৎপাদনে অংশগ্রহণ, ক্রয়ক্ষমতা এবং সরকারি-বেসরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতা, স্বাস্থ্যসম্মত প্রতিবেশ, পয়ঃপ্রণালি, সুপেয় পানি, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও পুষ্টিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। পুষ্টিজ্ঞানের অভাব অনেক সময় লভ্যতা ও সামর্থ্যরে কার্যকারিতা নস্যাৎ করে দেয়। আবার বাজার অস্থির থাকলে সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়; তখন খাদ্যের লভ্যতা ও খাদ্যপ্রাপ্তির ক্ষমতা হ্রাস পায়। মুদ্রাস্ফীতি খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার ছাড়া বাকি তিনটি উপাদানকেই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিকভাবে মাথাপিছু দিনে ১৮০০ কিলো ক্যালরি বা তার কম খাদ্য শক্তি গ্রহণকে ক্ষুধা হিসেবে গণ্য করা হয়, যার আর্থিক মান ১.৯০ মার্কিন ডলার বা তার কম। ক্ষুধার অপরিহার্য পরিণতিতে শরীরে পুষ্টিহীনতার প্রকাশ ঘটে। সেগুলো বিবেচনা করে খাদ্য নিরাপত্তার মাত্রা ও তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। বাংলাদেশে কভিড পরিস্থিতি বা কভিডোত্তর সময়ে পুষ্টিহীনতার উপস্থিতি বা প্রবলতা নিয়ে হালনাগাদ কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারের খাদ্য ও পুষ্টিনীতি ২০২০ থেকে দেখা যায় যে, পুষ্টিহীনতার প্রবণতা বা ক্ষুধা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সূচকের হার ২০১৭-১৯ সময়ে গড়ে ১৩ শতাংশে উপনীত হয়। আবার ওই সময় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে খর্বতা, কৃশতা ও কম ওজনের হার নেমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২৮, ৯.৮ ও ২২.৬ শতাংশে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা Asia and the Pacific - Regional Overview of Food Security and Nutrition 2021 শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে কভিডকালে বাংলাদেশের ক্ষুধা পরিস্থিতির একটি চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়, ওই দুই বছরে মাঝারি থেকে তীব্রমাত্রার ক্ষুধার সম্মুখীন হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৫.০৮ কোটি, যা জনসংখ্যার ৩১.৫ শতাংশ (Daily Star,17 December, 2021)|আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (International Food Policy Research Institute,IFPRI) বাংলাদেশের অতিমারী-পূর্ব ও অতিমারী-উত্তর ক্ষুধা পরিস্থিতি নিয়েও একটি জরিপ চালায়। জরিপটি এখনো অসম্পূর্ণ, তবে তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি গবেষণা সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা অভিজ্ঞতা স্কেলে (Food Insecurity Experience Scale) তারা নমুনাগুলো যাচাই করে খাদ্য নিরাপত্তার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। এই শ্রেণিগুলো হলো : ক. খাদ্য নিরাপদ, খ. মৃদু খাদ্য-অনিরাপদ, গ. মাঝারি খাদ্য-অনিরাপদ এবং ঘ. তীব্র খাদ্য-অনিরাপদ। জরিপে দেখা যায়, মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য-অনিরাপদ খানার সংখ্যা অতিমারী-পূর্ব সময়ে (২০১৯) যা ছিল, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এসে তা প্রায় পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে; গ্রাম ও শহরাঞ্চলে এদের হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৪.১৫ শতাংশ এবং ২১.১৯ শতাংশ। অতিমারী-পূর্ব সময়ে এদের হার ছিল যথাক্রমে ১৫.১০ শতাংশ ও ১৯.৫০ শতাংশ। অথচ ২০২০ সালের জুন মাসে অতিমারীর চরম সংকটকালে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে তাদের হার উঠে গিয়েছিল যথাক্রমে ৪৪.৬৭ ও ৫৬.০২ শতাংশে। চরম এ সংকট কাটিয়ে মাত্র দুই বছরে পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পেছনে কোনো কোনো বিষয় জাদুমন্ত্রের মতো কাজ করেছে, তা গবেষকরা খুঁজে দেখতে পারেন। তবে এ কাজে প্রণোদনা প্যাকেজের সঙ্গে মানুষের প্রাণোচ্ছলতারও যে একটি ভূমিকা ছিল, তা বোধ করি বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এবারের মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দার কবলে মানুষ যেভাবে নাকাল হচ্ছে, সেখান থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। এজন্য প্রয়োজন সঠিক তৎপরতা, দক্ষতা ও দূরদৃষ্টি দিয়ে বৈতরণী পারে সরকারের কাণ্ডারির ভূমিকা।
এখন প্রথম কাজ হবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কার্যক্রম গ্রহণ করা। স্বল্প মেয়াদে ভারত থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনের নিরিখে গম আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার মধ্যে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাও তাদের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। এজন্য এখনই তৎপর হতে হবে; শুধু চিঠিপত্র লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য এখনো বাড়েনি; বরং কিছুটা কমেছে। কাজেই কিছু চালও সংগ্রহ করে রাখা যায়। বোরো সংগ্রহ কেমন হবে, তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। ফসলের বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে হয়ে গিয়েছে। বন্যার পদধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল। কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি যে মোক্ষম ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটা প্রমাণিত। সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর পরিধি বাড়াতে হবে। এতে একাধারে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ তাদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্র খুঁজে পাবে এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বৃদ্ধির পথ কিছুটা রুদ্ধ হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ভর্তুকি কমাতে মূল্যবৃদ্ধির যে তৎপরতা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে মুদ্রাস্ফীতি দুলকি তালে আবার লম্ফ দেবে। তাতে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। কাজেই সরকারকে ব্যয় সংকোচন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে; গরিবের পকেট কেটে সেটা করা হলে তা হবে আত্মঘাতী।
সম্প্রতি ভারত সরকার জ্বালানির মূল্যহ্রাস করেছে। তাতে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ওই দেশের সক্ষমতা বাড়বে। ভারত এ মুহূর্তে ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে রাশিয়া ফেডারেশন থেকে স্বল্পমূল্যে পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনার কোনো সুযোগ আছে কি না, বাংলাদেশ তা অনুসন্ধান করে দেখতে পারে। পত্রিকায় দেখলাম রাশিয়া জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে। যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞার আড়ালে রুবলে রাশিয়ান জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয় করছে। আমরা তো এখানে কোনো পক্ষ নই। কাজেই আমাদের দোষ কোথায়? আমরা কম দামে জ¦ালানি তেল আমদানি করতে পারলে এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমাদের পাশ্চাত্যের উন্নয়ন সহযোগীরা এসব কর্মসূচির অন্যতম অংশীদার। তাদের বোঝাতে পারলে এই সুবিধা গ্রহণে দেশের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে এর জন্য দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতার প্রয়োজন হবে। আশা করি সরকার এদিকে আশু দৃষ্টি দেবে।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কলামনিস্ট
