নারীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ০২:১২ পিএম

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় মরতে বসেছেন ৩ সন্তানের এক জননী।

দেড় মাস আগে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেন এক চিকিৎসক।
ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পূনরায় অস্ত্রপচার করে তা অপসারণ করা হয়। তবে এতোদিনে সেখানে পচন ধরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন।

ভুক্তভোগী এই নারীর নাম শারমিন আক্তার। হাসপাতালের বিছানায় প্রতিটি মুহূর্ত তার কাটছে যন্ত্রণায়। 

জানা গেছে গত ১৬ এপ্রিল সিজারের মাধ্যমে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ঝালকাঠীর নলছিটির বাসিন্দা শারমিন আক্তার। অস্ত্রোপচারের পর থেকে পেটে ব্যাথা অনুভব করছিলেন তিনি। এজন্য সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাও দেয়া হয় তাকে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কিছু দিন পর শুরু হয় প্রচণ্ড পেট ব্যথা। সম্প্রতি পেট ফুটো হয়ে বের হয় পুঁজ। এরপর ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর দেখা যায় শারমিনের পেটের ভেতর রয়ে গেছে গজ। পরে ২২ মে পূনরায় অস্ত্রোপচার করে তা বের করেন শের-ই বাংলা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নাজিমুল হক।

তিনি জানান, দীর্ঘ দিন গজ থাকায় পেটের ভিতরে পচন ধরে নাড়ি ফুটো হয়ে গেছে শারমিনের। পূনরায় অস্ত্রপচার করে সেগুলো ঠিক করে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে চিকিৎসকের ভুলে স্ত্রীর এমন ভোগান্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শারমিন আক্তারের স্বামী জিয়াউল হাসান। 

তিনি বলেন, চিকিৎসকের কাছে আমরা আসি সুস্থ হওয়ার জন্য। আর সেই চিকিৎসকই আমার স্ত্রীকে অসুস্থ করে দিয়েছে। এতে পুরো পরিবারের সুখ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও আক্ষেপ করেন জিয়াউল হাসান।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতাল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, সার্জারি বিভাগের প্রধান এবং মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. নাজিমুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. খুরশীদ জাহান ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) মনিরুজ্জামান শাহীনকে সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জমা দেবে। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত