বিএনপির সংলাপ

‘রাষ্ট্র মেরামতে’ একমত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ০২:২৪ এএম

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে একমত হয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের ‘সংবিধান মেরামতের’ বিষয়ে ঐকমত্যে এসেছে দল দুটি। গতকাল বুধবার নিজেদের মধ্যে সংলাপের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একমত হওয়ার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এখন আমরা যারা একমত হচ্ছি তারা এবং আমরা যৌথভাবেই আন্দোলন শুরু করব এবং নিজের নিজের জায়গা থেকে আন্দোলন শুরু করব। আন্দোলন যুগপৎ হবে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ধারা নির্ধারিত হবে যে শেষ পর্যন্ত সেটা কীভাবে রূপ নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে কাজ করলে আমরা অবশ্যই এই দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগণের বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হব।’

সাইফুল হক বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষ দেখতে চায় যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আছে। মানুষ দেখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোকে জনগণের পক্ষে সমন্বিতভাবে যুগপৎ ধারায় মাঠের একটা কার্যকর ঐক্য দেখতে চায়। আজকে আলোচনায় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এই যুগপৎ ধারায় আন্দোলনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এটাকে আমরা আরও জোরদার করব এবং আন্দোলনের কাজটাকে আমরা আরও সমন্বিত করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণআন্দোলন ও গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে যদি পদত্যাগে বাধ্য করা না যায় মানুষের ভোটের অধিকার বলি, গণতান্ত্রিক অধিকার বলি অথবা একটা তদারকির সরকার, অবাধ গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন অথবা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কোনোটাই বাংলাদেশে নিশ্চিত করা যাবে না। সেই কারণের জন্য আমরা আলাপ-আলোচনা করে আন্দোলনে ঐকমত্য হয়েছি। দেশবাসীকে আমরা আহ্বান জানাতে চাই, আজকে বিরোধী দলগুলো যে উদ্যোগ নিয়েছে মানুষ তার নিজ নিজ জায়গা থেকে এ উদ্যোগের পাশে দাঁড়াবেন এবং তারা আন্দোলনের সাথী হবেন।’

তিনি জানান, যুগপৎ আন্দোলন অর্থ বিএনপি-বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করবে না, তবে একই লক্ষ্য অর্জনে তারা কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করলেও তাতে সমন্বয় থাকবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে বেরিয়ে আসা জোনায়েদ সাকির দল গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তারা আগামী মাসে গণতন্ত্র মঞ্চ নামে একটি মঞ্চ করবেন।

‘সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে’ : সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতামত তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, ‘শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য আমাদের এ আন্দোলন নয়। পুরো রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, পরিবর্তন, একই সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কারসহ এখানে রাষ্ট্র প্রশাসনের গণতান্ত্রিক যে সংস্কার এবং আমাদের এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যেভাবে নাগরিকদের ওপরে একটা সহিংস ভূমিকায় আবির্ভূত হয় এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে যেভাবে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয় এ জায়গাগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে নির্বাহী বিভাগ এখন যেভাবে বিচার বিভাগ বা আইন প্রণয়ন বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপরে যেভাবে তারা (সরকার) কর্তৃত্ব করে এটা আধুনিক রাষ্ট্রের এটা সাধারণ যে ভারসাম্য তার পরিপন্থী। এসব বিষয়ে আমরা গুণগত পরিবর্তন, সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি। পুরো রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থার একটা গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রয়োজন। আমরা আজকের আলোচনায় সংকট উত্তরণে আমাদের দলের ৩১ দফা বিএনপি নেতাদের কাছে পেশ করেছি।’

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেসব সংস্কারের কথা সাইফুল হক বলেছেন, আমরাও যেসব কথা বলছি এসব সংস্কার নিয়ে, এ বিষয়ে আমরা আরও বিশদ আলোচনা করব এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারেও যৌথভাবে আমাদের বক্তব্য নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হব।’

এর আগে আলোচনার জন্য দুপুর সোয়া ১টায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন। সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ছাড়াও সংলাপে অংশ নেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, আনছান আলী দুলাল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক, মাহমুদ হোসেন ও এ্যাপেলো জামালী।

দুপুর সোয়া ১টা থেকে পৌনে দুই ঘণ্টা এ সংলাপ হয়। সংলাপের পর দুই দলের প্রধান সাংবাদিকদের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। গত ২৪ মে বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলনের ঐক্য গড়ে এ সংলাপের সিদ্ধান্ত নেয়। ওইদিন তারা নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে এবং ২৭ মে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের লেবার পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেছে। গত মঙ্গলবার গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপ করে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত