২১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ০২:২২ এএম

নতুন এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হয়েছে ২ হাজার ১০০-এর কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলই বেশি। তবে মাদ্রাসা, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ডিগ্রি কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। মূলত শর্ত পূরণ করা সব প্রতিষ্ঠানকেই তালিকায় রাখা হয়েছে।

এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সব কাজ শেষ করেছে। সম্পূর্ণ ফাইলও প্রস্তুত। এখন শুধু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

এমপিওভুক্তি নিয়ে গত ৮ মাস ধরে কাজ চলছে। গত মার্চ-এপ্রিলে নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা আসতে পারে বলে একাধিকবার জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যায়েও ঘোষণা না আসায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন যোগ্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ। ফাইল রেডি। এখন আমরা শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

তবে গত বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকা তৈরির কাজ শেষ। এটি এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। চলতি অর্থবছর এ খাতে সরকারের যে বরাদ্দ আছে তা দিয়েই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী অর্থবছরেও এ খাতে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২০০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ রয়েছে ৫০ কোটি টাকা। গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। এরপর আবেদনকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। তারা অবকাঠামো ও জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ফল ও স্বীকৃতি নবায়নের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

চলতি অর্থবছরের আর মাত্র এক মাস বাকি রয়েছে। এই সময়ে নতুন এমপিওভুক্তির তালিকা প্রকাশ করলেও চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ খরচ করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন শুধু প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরও মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) দেওয়া হবে। তারা একটি ইনডেক্স নম্বর পাবেন। সেই ইনডেক্সের বিপরীতেই বেতন-ভাতা ছাড় করা হবে। যেখানে মূলত বরাদ্দকৃত টাকা খরচ হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও দেওয়া হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এক মাসে সেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার নানাভাবে ব্যয় সংকোচন নীতির দিকে যাচ্ছে। ২ হাজার ১০০ এর কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে হলে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দকৃত ২৫০ কোটি টাকায় সম্ভব নয়। এই অর্থবছরে ঘোষণা এলে গত বছরের জুলাই থেকে বকেয়া হিসেবে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। আর একবার এমপিওভুক্তি করলে প্রতি বছর এই ব্যয় বাড়বে। তাই সরকার আরেকটু ভেবেচিন্তে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এজন্যই এমপিভুক্তির ঘোষণায় দেরি হচ্ছে।

জানা যায়, নতুন এমপিওভুক্তির জন্য সব পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান মিলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন পড়ে। আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাসের হার, একাডেমিক স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় জমি থাকলে তাদের যোগ্য তালিকায় রাখা হয়। ২ হাজার ১০০-এর কিছু বেশি প্রতিষ্ঠান সব শর্ত পূরণ করেছে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ ছয় মাস যাচাই-বাছাই শেষে ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১ হাজার ৬৩৩ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ ৯৮২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত