আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা রিপোর্ট-২০২১

পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ০২:১৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-২০২১ (আইআরএফ) শীর্ষক বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। এ সময় তিনি একাধিক দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটির (বাংলাদেশ) সংবিধান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু নীতিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সমুন্নত রেখেছে। সংবিধানে ধর্মীয় বৈষম্যকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব ধর্মকে সমান করে দেখা হয়েছে। পারিবারিক আইনে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য আছে আলাদা আলাদা ধারা। ১৩ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা দেখা দেয়। এতে মুসলিম ও হিন্দুসহ কয়েকজন নিহত হন। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে সহায়তা এবং বাড়তি নিরাপত্তা দিয়েছে। কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ গঠন করেছে। 

বছরজুড়ে তিনটি হাই-প্রোফাইল ধর্মীয় ইস্যু ছিল। ২০১৫ সালে একজন প্রকাশককে হত্যার দায়ে ইসলামপন্থি আট উগ্রবাদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০১৫ সালে একজন নাস্তিক ব্লগারকে হত্যার জন্য ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ইসলামপন্থি গ্রুপের ১৪ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উগ্রবাদ প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় এবং মসজিদ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য মনিটর করতে সরকার সারা দেশের ইমামদের জন্য অব্যাহতভাবে গাইডেন্স বা নির্দেশনা দিয়ে গেছে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অব্যাহতভাবে বলে যাচ্ছে যে, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ভূমি দখল প্রতিরোধে সরকার কার্যকর কিছু করছে না। সহিংসতার টার্গেটে পরিণত হতে পারে এমন ধর্মীয় স্থান, উৎসব এবং ইভেন্টে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করেছে সরকার।

দেশজুড়ে মন্দির এবং হিন্দুদের সহায়-সম্পত্তিতে হামলা হতে থাকে। এ ধারা চলতে থাকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। হিন্দু নেতারা বলেছেন, আরও সহিংসতার ভয়ে আতঙ্কিত তারা। ফলে ৪ নভেম্বর প্রকাশ্যে দিওয়ালি উদযাপন থেকে তারা বিরত থাকেন। একই সঙ্গে মন্দিরে এবং ঘরে ঘরে এ উৎসব করার কথা বলেন তারা। হিন্দুদের নিরাপত্তার অভাবের প্রতিবাদে উপাসনাকারীরা তাদের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণে লোকজনের ওপর হামলা ও উপাসনালয় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে বলে আইআরএফ রিপোর্ট প্রকাশকালে মন্তব্য করেছেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারত। দেশটিতে বহু ধর্মবিশ্বাসের লোকজনের বসবাস। আমরা লোকজন এবং উপাসনালয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনা লক্ষ করেছি।’ প্রতিবেদনটি ২০২১ সালে বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন করে তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আইআরএফ বিভাগ এটি প্রস্তুত করে। এর নেতৃত্বে ছিলেন আইআরএফ দূত রাশাদ হুসাইন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত