ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বাটন টিপতে না পারলে টিপে দেওয়ার লোক থাকবে এমন ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা বাঁশখালীর বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং আগামী নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের সই করা পৃথক দুটি চিঠি চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। একটি চিঠিতে আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরেক চিঠিতে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, মুজিবুল হকের এ বক্তব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধ। এ প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চাম্বল ইউপির নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী গত ২৮ মে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন। চাম্বল ইউনিয়নের বাংলাবাজার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারে তার দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মুজিবুল হক চৌধুরী চট্টগ্রামের ভাষায় ভোটারদের উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে বলেন, ‘তো এখানে ইভিএম একটা করেছে সরকার। তো কী করতাম? একটু কষ্ট করে গিয়ে আঙুলে চাপ দিয়ে ভোট দিতে হবে। চাপ দিতে না পারলে চাপ দেওয়ার জন্য সেখানে আমি মানুষ রাখব। তো আমাকে একটু দোয়া করবেন সকলে।’
মুজিবুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘রিকশা করে পারেন, যেভাবে পারেন ভোটটা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কারণ, ইভিএমের ভোট। ইভিএম না হলে আমি কাউকে খুঁজতাম না। ভোট আমি মেরে দিতাম। যেভাবে পারি, ভোটটা মেরে দিতাম। ইভিএমে আইডি কার্ড ঢুকিয়ে দিতে হয়, নইলে হয় না। এটা না হলে আমি রাতেই নিয়ে ফেলতাম। তো আপনারা একটু কষ্ট করেন, আপনাদের একটু কষ্ট করে ওটা নিয়ে যেতে হবে। গিয়ে মেশিনে ফিংগার দিতে হবে। কথা বোঝেননি?’
