‘একটাই পৃথিবী : প্রকৃতির ঐকতানে টেকসই জীবন’Ñ এই স্লোগানে নানা কর্মসূচিতে গতকাল রবিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়। এছাড়া শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্লোগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে সভা-সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও নানা আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী পরিবেশ মেলা এবং মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্যের আলোকে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষ-প্রাণে প্রকৃতি প্রতিবেশ, আগামী প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ’।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ‘দেশকে সবুজ বাংলাদেশে পরিণত করতে সকলে অন্তত ৩টি করে গাছ লাগাতে হবে। দেশের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদেরকে অবশ্যই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি নানাবিধ গাছের চারার সমারোহে এবারের মেলাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। বৃক্ষমেলার পরিবেশ সুন্দর থাকায় জনগণ পছন্দমতো গাছের চারা কিনতে পারবে এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হবে। পরিবেশ মেলার বিভিন্ন ধরনের স্টল থেকে পরিবেশ দূষণের কারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে দর্শনার্থীরা বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারবে।
এবারের মেলায় ১১০টি স্টল স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছ, ফুল গাছ, ঔষধি গাছ, ক্যাকটাস, ইনডোর প্ল্যান্ট রয়েছে বৃক্ষমেলায়। গাছের পাশাপাশি টব, সার, পাটজাত দ্রব্যও পাওয়া যাচ্ছে। মেলাটি আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
বুড়িগঙ্গায় গণগোসল : নদীদূষণের প্রতিবাদে বুড়িগঙ্গায় গণগোসলের আয়োজন করে কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বছিলা সেতুর নিচে বুড়িগঙ্গায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গায় গোসল করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। এজন্য তিনি এর পক্ষে নন। এরপরও কেন এই কর্মসূচি তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এটা নদীদূষণের বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিবাদ। বুড়িগঙ্গার পাড়ে যারা বসবাস করে, তারা প্রতিনিয়ত এই পানিতে গোসল করে। হয় তাদের শরীরে এই পানি সয়ে গেছে, না হয় ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো রোগে আক্রান্ত হবে এসব মানুষ।
