মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ০২:১৬ এএম

ভারতের ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুসলিম বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাকও এসেছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। পরিস্থিতি সামলাতে ইসলামি বিশ্বের অংশীদারদের শান্ত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা গত মাসে এক টেলিভিশন শোতে অংশ নিয়ে বিতর্কিত ওই মন্তব্য করেছিলেন। পরে দলটির নয়াদিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান নবীন জিনদালও নূপুর শর্মার মন্তব্যের সমর্থনে টুইট করেন। তাদের এই মন্তব্য দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাদের মন্তব্যের জেরে দেশটির কয়েকটি রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিমরা বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন। বিজেপির এই দুই নেতা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। দল থেকে শর্মাকে বরখাস্ত এবং জিনদালকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিজেপি যেকোনো ধর্মের, যেকোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অবমাননার তীব্র নিন্দা জানায়। কোনো সম্প্রদায় বা ধর্মকে অপমান বা হেয় করে, এমন যেকোনো মতাদর্শের বিরুদ্ধেও বিজেপির অবস্থান। বিজেপি এমন মানুষ বা মতাদর্শের প্রচার করে না।’

বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ভারতকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই ধরনের ‘ইসলামভীতিপূর্ণ’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে যদি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তা মানবাধিকার রক্ষায় গুরুতর বিপদ তৈরি এবং অত্যধিক কুসংস্কার ও প্রান্তিকতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যা সহিংসতা ও ঘৃণার চক্র তৈরি করবে।’

সৌদি আরব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিজেপি মুখপাত্রের বক্তব্যে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’ এদিকে, কাতারে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল বলেছেন, কিছু লোকের মন্তব্য কখনোই ভারত সরকারের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে না। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং অন্য কূটনীতিকরাও বিতর্কিত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের জোট গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গে ভারতের ২০২০-২১ অর্থবছরের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই জোটের সদস্য কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। লাখ লাখ ভারতীয় এসব দেশে বসবাস এবং কর্মরত রয়েছেন। তারা দেশে লাখ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চল থেকে ভারত সবচেয়ে বেশি জ্বালানিও আমদানি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত