শঙ্কা জাগানো এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্তন্যপায়ী, পাখি, উভচর, সরীসৃপ এবং মৎস্য প্রজাতির ৬৮ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে খুব শিগুগিরই হয়তো আবারও বন-অরণ্য আর চারণভূমিতে ফিরে আসবে ভারতীয় গাউর বা বাংলাদেশের গয়াল, মঙ্গোলিয়ার সুদর্শন ঘোড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গরু বানটেং, সৌদির হারানো গেজেল, চিতা এবং মাত্র দুটি জীবিত সাদা গণ্ডারের উত্তরসূরিরা।
বিলুপ্ত প্রাণীদের ফিরিয়ে আনতে আশা জাগাচ্ছে এসব প্রাণীর কোষ জমিয়ে রাখা স্যান দিয়েগোর হিমায়িত চিড়িয়াখানা। প্রায় ১২২০ প্রজাতির ১০ হাজার ৫০০ প্রাণীর কোষ সংরক্ষিত আছে এখানে।
এই হিমায়িত চিড়িয়াখানার সংরক্ষিত কোষ থেকে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে জন্ম নেয় মঙ্গোলিয়ার বিলুপ্ত প্রজাতির একটি ঘোড়া। চমৎকার দেখতে ঘোড়ার বাচ্চাটির নাম রাখা হয় ‘কুর্ট’। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হিমায়ত চিড়িয়াখানার স্বপ্নদ্রষ্টার নাম। কারণ হিমায়িত চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কুর্ট বেনির্সখের হাত ধরে।
এই গবেষক ১৯৭২ সালের দিকে বিলুপ্তির মুখে পড়া প্রাণীদের চামড়া সংরক্ষণ শুরু করেন। তখনো তিনি জানতেন না এসব দিয়ে কী হবে! তবে তার বিশ্বাস ছিল এক দিন প্রযুক্তি এমন উন্নত হবে যা দিয়ে এসব নমুনা থেকে আবার বিলুপ্তি থেকে ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীরা। এরপর তার সংগ্রহ করা নমুনাগুলো চলে যায় ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত স্যান দিয়েগো চিড়িয়াখানায়, সেখানে এসব নমুনা সংরক্ষণাগারের নাম দেওয়া হয় ‘ফ্রোজেন জু’ বা হিমায়িত চিড়িয়াখানা।
গবেষক কুর্ট বেনির্সখ মারা গেছেন ২০১৮ সালে কিন্তু তার সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব। তার গড়া হিমায়িত চিড়িয়াখানাটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণীকোষ সংরক্ষণাগার।
