ত্রাণের টিনে স্কুলশিক্ষকের বাড়ির সীমানা বেড়া!

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ০৪:২৭ এএম

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আয়মাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বাড়িতে ঘরের চালা ও সীমানা বেড়ায় ত্রাণের ঢেউটিন ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ওই শিক্ষকের স্বামী মোকসেদ আলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় চার বান্ডেল টিন বাগিয়ে নিয়েছেন।

সম্প্রতি উপজেলার মিনিগাড়ি গ্রামে ফরিদা খাতুনের বাড়িতে গিয়েও দেখা গেছে ত্রাণের নতুন টিন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে টিন বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলশিক্ষক ফরিদা খাতুন। ভিন্ন ভিন্ন বক্ত্য দিয়েছেন মোকসেদ আলী ও তাদের ছেলে পিয়াদ নাসের।

আর পিআইও বলছেন, মোকসেদ আলী তাদের অফিসের কেউ নন। তার নামে চলতি অর্থবছরে কোনো ঢেউটিন দেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, গত মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে এলাকার অনেকেরই বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোকসেদের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন। তার কিছুদিন পরেই তাদের বাড়িতে ত্রাণের টিন দিয়ে ঘরের চালা ঠিক করা হয়। দেওয়া হয় সীমানা বেড়াও। অথচ অনেক হতদরিদ্র মানুষ যারা এসব ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য, তারা পাননি। তাদের অভিযোগ, পিআইও অফিসে কাজ করার সুবাদে কর্তাদের যোগসাজশে টিন বাগিয়ে নিয়েছেন মোকসেদ-ফরিদা দম্পতি।

তারা জানান, মোকসেদ আলী প্রায় ২৬ বছর থেকে ক্ষেতলাল পিআইও অফিসে কর্মরত আছেন। সেই সুবাদেই তিনি নানা সময়ে সরকারি সুবিধা নিয়ে থাকেন। 

মোকসেদও ত্রাণের টিন লাগানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি পিআইও অফিসে বিল ভাউচারের কাজ সমন্বয় করি। আমার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনুদান হিসেবে টিন পেয়েছি। একই কথা বলেন মোকসেদের স্ত্রী ফরিদা খাতুন। তিনি বলেন, এই টিন কৌশলে হাতানোর অভিযোগ সঠিক নয়। ঝড়ে আমার ঘরের টিন উড়ে যাওয়ায় সরকারি অনুদান হিসেবে ত্রাণের টিন পেয়েছি।

তাদের ছেলে পিয়াদ নাসের বলেন, আমার আব্বু পিআইও অফিসে আবেদন করে টিনগুলো সহায়তা পেয়েছেন।

তবে ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন পাপন বলেন, মোকসেদ পিআইও অফিসের কোনো কর্মচারী নন। মাসিক কিছু টাকার বিনিময়ে তিনি অফিসের বিল ভাউচারর কাজ করেন। তার নামে ২০২০-২১ অর্থবছরে কোনো টিন বরাদ্দ হয়নি। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে আম্পানের সময় এই ঢেউটিনগুলো দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা তদন্তের জন্য ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত