দেশে আসা তুরস্কের এক নাগরিককে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত সন্দেহে রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির নমুনা হিসেবে শরীরে দেখা দেওয়া ফুসকুড়ির রস পরীক্ষার জন্য নিয়েছে। আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফল পাওয়া যাবে। তখনই নিশ্চিত হওয়া যাবে ওই ব্যক্তি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কি না।
তুরস্কের এ নাগরিক গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সন্দেহ হলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুপুর ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তিনি। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় সন্দেহ হলে তাকে বিমানবন্দর হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তুরস্কের এ নাগরিকের শরীরে দেখা দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে মাঙ্কিপক্স ও যেকোনো ধরনের পক্সের উপসর্গের কোনো মিল নেই বলে জানিয়েছেন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এ ব্যক্তি সোরিয়াসিস নামে একধরনের অসংক্রামক চর্মরোগে আক্রান্ত।
এ ব্যাপারে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। টেস্ট হচ্ছে। কিন্তু লক্ষণ যেটা দেখেছি, তাতে মাঙ্কিপক্স হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমনকি যেকোনো ধরনের পক্স হওয়ার সম্ভাবনাই কম। নমুনা পরীক্ষা করে ফল পেতে ২৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। মাঙ্কিপক্স কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তুরস্কের এ নাগরিকের সম্ভবত কোনো চর্ম রোগ আছে।’
এ ব্যাপারে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ব্যক্তির হাত, কনুই, পা ও হাঁটুর ত্বকে ফুসকুড়ি রয়েছে। এগুলো ছাড়া তার শরীরে অন্য কোনো উপসর্গ নেই। জ¦রও নেই। এ রোগ নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এ সমস্যাটা তার দীর্ঘদিনের, প্রায় ১২-১৩ বছরের পুরনো। তুরস্কের চিকিৎসকরা তাকে সোরিয়াসিস (একধরনের অসংক্রামক চর্মরোগ) রোগী হিসেবে চিকিৎসা দিয়েছেন। আমরাও এ ধরনের রোগের বিষয়েই সন্দেহ করছি। এ ব্যক্তির বয়স ৩০ বছর। উনি তুরস্কের নাগরিক। বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আমাদের মনে হচ্ছে না তিনি মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত।’ ওই বিদেশিকে এখন হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে জানান পরিচালক।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ‘দেশে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের কোনো রোগী নেই’ বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমসহ দেশের বেশ কিছু অনলাইন ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে “দেশে বিদেশি একজন নাগরিকের দেহে মাঙ্কিপক্সের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে” সংক্রান্ত যে তথ্যটি প্রচার হচ্ছে সে তথ্যটি সঠিক নয়। দেশে মাঙ্কিপক্সে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হননি। ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির আক্রান্তের ঘটনা কখনো ঘটলে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এই মুহূর্তে দেশে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি নেই।’
