পত্রিকার ডিক্লারেশনে টকশো ও ভিডিও দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অ্যাটকোর সঙ্গে আগের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি টিভি ও বেতারের টিআরপি নিরূপণের কাজটি দ্রুত শুরু করবে। ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল পরিবেশন করছে এমন যাকে পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে কেব্ল অপারেটর লাইসেন্স বাতিল করা হবে, আমরা সেটি করব এবং আমরা মাঠপর্যায় থেকে এটা মনিটর করছি, মোবাইল কোর্ট চলছে। আইপি টিভিতে সংবাদ প্রচারও সরকারের নীতিমালার পরিপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে আমরা খুব সহসা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন, অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং পরিচালকদের মধ্যে আবদুল হক, কাজী জাহেদুল হাসান, লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, আহমেদ জুবায়ের, নাভিদুল হক, মো. আশফাক উদ্দীন আহমেদ, আবদুস সামাদ লাবু, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগম ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সীতাকুন্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ৫ শতাংশের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানকে পুরো ডিপোর মালিক বানিয়ে দেওয়া বিশাল ভুল এবং কোনোভাবেই সমীচীন নয় জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিএম কনটেইনার ডিপোতে আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের মালিকানা মাত্র ৫ শতাংশ আর ৯৫ শতাংশ হচ্ছে অন্যদের। সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ নেদারল্যান্ডসের, মুজিবুর রহমানের মাত্র ৫ শতাংশ এবং বাকিটা আরেকজনের। এই ৫ শতাংশ মালিকানার সূত্র ধরে মুজিবুর রহমানকে ডিপোর মালিক বানিয়ে দেওয়া বিশাল ভুল।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রথম ভুলটা হয়েছে গণমাধ্যমে, যারা এ ভুলভাবে জিনিসটাকে উপস্থাপন করেছিল তাদের। সেটির সূত্র ধরে বিএনপি মিথ্যাচার করা শুরু করেছে। সাংবাদিকরা মিসলিডিং প্রশ্ন করলে অনেক সময় সমাজ ভুল তথ্য পায়। আর যেসব রাজনৈতিক দল গুজব আর মিথ্যাচারের ওপর ভর করে রাজনীতি করে, তারাও সুযোগ পায়। সুতরাং মাত্র ৫ শতাংশের মালিককে প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখানো কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি।’
এ সময় পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২৫ জুন অবশ্যই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে। কেউ গুজবে কান দেবেন না। পদ্মা সেতু শুধু আমাদের স্বপ্নের সেতুই নয়, বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক। সব সমালোচনাকে উপড়ে ফেলে বিশ্ববেনিয়াদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শেখ হাসিনা যে মহাযজ্ঞ সমাধান করতে পারেন, সেটার প্রতীক হচ্ছে পদ্মা সেতু।’
পদ্মা সেতু নিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘যে গোষ্ঠী পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর সময় নরবলি দিতে হবে বলে গুজব রটিয়েছিল ও তৎপ্রেক্ষিতে সারা দেশে ছেলেধরা গুজব রটিয়ে দেওয়ায় বহু নিরীহ মানুষ হামলার শিকার হয়েছিল, অনেকে মৃত্যুবরণও করেছিল, সেই একই গোষ্ঠী এখনো গুজব রটানোর কাজগুলো করছে। যারা ভদ্র মানুষ কিন্তু অবলীলায় মিথ্যা কথা বলে তারাই এ গুজব রটানোর পেছনে আছে, নিজেরাও রটাচ্ছে।’
‘মির্জা ফখরুল সাহেব জ্যেষ্ঠ মানুষ, তার সম্পর্কে বেশি বলতে চাই না’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি হঠাৎ স্বপ্নে দেখে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন কি না আমি জানি না। ২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে নিয়ে স্মরণিকা প্রকাশ পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুর রহমান সাহেব বাণী দিয়েছিলেন। সেটির ছবি আমার কাছেও আছে। আর উনি এক কাল্পনিক কথা বলে বসলেন। দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এ ধরনের মিথ্যাচার ও বিভিন্ন সময় গুজব রটানোর আসলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার, তাহলে এগুলো বন্ধ হবে।’
এ সময় রাঙ্গামাটিতে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এ আইনে অনেক সাংবাদিকও বিভিন্ন সময় মামলা করেছেন। রাঙ্গামাটির এ মামলার বিস্তারিত আমার জানা নেই, তবে একজন ব্যক্তি মামলা করেছেন এবং অভিযুক্ত সাংবাদিকের জামিনও হয়েছে। কেউ অপরাধ করলে বিচার হওয়া প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাংবাদিক বা অন্য কারও অযথা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়, সে বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখব।’
এর আগে বৈঠকে অ্যাটকোর সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং পরিচালকরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ধার্য বিশেষ কর, ক্লিন ফিড এবং দ্রুত টিআরপি শুরু করা নিয়ে আলোচনা করেন এবং দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ‘টক শো’সহ নানা ধরনের ভিডিও প্রদর্শন এবং আইপি টিভিতে সংবাদ প্রচার বন্ধে আইন প্রয়োগের দাবি জানান। অনিবন্ধিত আইপি টিভি বন্ধেরও দাবি জানান তারা। সচিব মো. মকবুল হোসেন এ সময় সার্বিকভাবে সম্প্রচারসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আলোকপাত করেন।
বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ধার্য বিশেষ করের বিষয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের স্বার্থে দেশের শিল্পীদের স্বার্থে আমরা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আপনারা দেশের স্বার্থেই কাজ করছেন। আমি মনে করি শিল্প এবং শিল্পী দুটোকে বাঁচানোর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা সেটি করেছি। জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে, সেজন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।’
