দুই বছর পর জনসম্মুখে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ জুন ২০২২, ০২:৫৬ এএম

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের বাকি আর ১৪ দিন। চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুনে এ সেতুর উদ্বোধন করবেন এবং দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি জনসম্মুখে ভাষণ দেবেন। ফলে এ নিয়ে আনন্দযজ্ঞের শুরু হয়েছে এক মাস আগে থেকেই। জেলায় জেলায় বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কে কখন কীভাবে উদ্বোধনের দিন আসবে তা এখনই ঠিক করে রাখছেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ব্যস্ত এই উদ্বোধনী কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিয়ে। একটা জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে এ সেতুর দ্বার খুলবে সেই কর্মপরিকল্পনাই করছে দলটি।

গতকাল শুক্রবারও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হবে। আমাদের লক্ষ্য ১০ লাখেরও বেশি মানুষের জনসমাগম ঘটানো। তবে এখনো আমরা বলতে পারছি না কত লোক হবে। আমরা আশা করছি, বঙ্গবন্ধুকন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী জনসভা সফল করার লক্ষ্যে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আরও বলেন, ‘সব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে এবং তার সততার কারণে বাঙালি জাতি একাত্তরের পর পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এই আরেকটি বিজয় অর্জন করছে বলে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ বিশ্বাস করে। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে তাদের ভেতরে সেই আমেজ কাজ করছে।’

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি দুই বছর কভিড মোকাবিলা করেছেন। কভিডকালে তিনি স্বাস্থ্যবিধির কারণে জনসম্মুখে আসতে পারেননি তেমন। কাজেই দীর্ঘ দুই বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা জাতির উদ্দেশে জনসম্মুখে ভাষণ দেবেন। কাজেই এখানে কত লাখ লোক হবে, আমরা কিন্তু বুঝতে পারছি না। সে কারণেই কিন্তু এই সংগঠনগুলোকে নিয়ে সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করার আলোচনা করতে হয়েছে। কেউ বাসে আসবে, কেউ লঞ্চে আসবে, অন্যান্য যানবাহনে চড়ে আসবে। সেগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা যায়, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জুন মাস গরমের দিন। বৃষ্টিও হতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে আসা মানুষদের কেউ অসুস্থ হলে যেন ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেজন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা ধারণা করেছি, কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে পদ্মাপাড়ে। এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে এখনই আমরা বলতে পারছি না। তবে আমাদের উদ্যোগ হলো, জনসমাগম যাই হোক, বিশাল জনসভাকে সাফল্যমন্ডিত করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।

‘পদ্মা সেতু নিয়ে যারা সমালোচনা করে তাদের দেশপ্রেম নেই ’ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে যারা সমালোচনা করে তাদের দেশপ্রেম নেই। তারা হচ্ছে জাতির শত্রু। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।’

গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার’ দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শামীম আরও বলেন, ‘প্রমাণ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে ওয়াদা করেন তা বাস্তবে পালন করেন। পদ্মা সেতুর আরেক নাম শেখ হাসিনার সাহসের প্রতীক। পদ্মা সেতুর আরেক নাম বাংলাদেশের সক্ষমতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। পদ্মা সেতু হচ্ছে দাবিয়ে না রাখার প্রতীক। পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্ববাসী প্রশংসা করছে।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে মাওয়া ফেরিঘাটের কাছেই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু সেতুটির নির্মাণকাজ থমকে যায় বিএনপির রাজনৈতিক হীনম্মন্যতার কারণে। বিএনপি পদ্মা সেতু নিয়ে মিথ্যাচার করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত