মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির সূর্যসন্তানদের সম্মান জানানো হয়, সেখানে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আওয়ামী লীগের একটি থানা ও দুটি ওয়ার্ড সম্মেলন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের এমন আয়োজন রীতিবহির্ভূত বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেছেন, এখানে রাজনৈতিক, সামাজিক সভা-সমাবেশ করা শোভন নয়। মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের কঙ্কালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এখানে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে অনুষ্ঠান ছাড়া আর কোনো অনুষ্ঠান কাক্সিক্ষত নয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে মিরপুর মাজার রোডে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ চত্বরে সম্মেলন করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের অধীন দারুসসালাম থানা এবং ৮ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড শাখা। শহীদ বেদির পাশে তৈরি করা হয় মঞ্চ।
দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মাজহারুল আনামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্য নেতারা।
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সম্মেলন আয়োজন বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে কেন সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ করা হলো, ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ওখানে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো করা হয়।’ বাকিটা তারাই বলতে পারবেন কেন সেখানে এই অনুষ্ঠান করা হলো বলে জানান তিনি।
দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মাজহারুল আনাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সেখানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আগেও হয়েছে। তা ছাড়া আমরা সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি নিয়েছি। তারা যদি কোনো বিধিনিষেধের কথা বলতেন, আমরা অন্য কোনো জায়গায় ব্যবস্থা করতাম।’
এ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে রাজনৈতিক, সামাজিক না ধর্মীয় কোনো সভা-সমাবেশ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এখানে একমাত্র শহীদদের স্মরণে কোনো অনুষ্ঠান করা যায়। অন্য কোনো অনুষ্ঠান নয়।’
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীরা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করে দিতে নির্মম এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। পরে মিরপুরের বধ্যভূমিতে সেই সব সূর্যসন্তানকে মাটিচাপা দেয় পাকিস্তানি বাহিনী। স্বাধীন সার্বভৌম দেশে তাদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে পরে সরকার ওই জায়গাটিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে; যা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নামকরণ করা হয়। প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করে আসছে বাঙালি জাতি। এই দিনে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে সূর্যসন্তানদের সম্মান জানানো হয়।
