সব নোটে স্বাক্ষরের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন গভর্নর

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০৩:০১ এএম

অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের নিয়োগের মেয়াদ আগামী ৩ জুলাই শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ৪ জুলাই নতুন গভর্নর হিসেবে কাজে যোগ দেবেন রউফ তালুকদার। এর মধ্য দিয়ে দেশের সব কাগজের মুদ্রায় স্বাক্ষর করার সুযোগ তৈরি হলো তার।

অর্থ সচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৮ সালে আব্দুর রউফ তালুকদারের স্বাক্ষরে ২ ও ৫ টাকার কাগুজে মুদ্রা বাজারে আসে। ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে ৫ টাকার নোট সরকারি মুদ্রা হওয়ায় এই নোটটিতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর চালু হয়। এর আগে এই নোটটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকত। এছাড়া দেশে মুদ্রা চালুর পর থেকেই ১ ও ২ টাকার মুদ্রা সরকারি নোট হিসেবে প্রচলনের সুবাদে এই নোট দুটিতে অর্থ সচিবরাই স্বাক্ষর করতেন।

বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরও অর্থ সচিব ছিলেন। তিনিও ২ টাকার নোটে স্বাক্ষর করেন। তখন ৫ টাকার নোটে স্বাক্ষর করতেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। ফজলে কবির গভর্নর হওয়ার আগেই ৫ টাকার নোট সরকারি মুদ্রায় রূপান্তর করায় তিনি এই নোটে স্বাক্ষরের সুযোগ পাননি।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ কয়েনেজ অ্যাক্ট, ২০১৫ পাসের মাধ্যমে ৫ টাকার নোটকে সরকারি মুদ্রায় রূপান্তরের পর থেকে এই নোটটিতেও অর্থ সচিবরা স্বাক্ষর করতেন।

২০১৮ সালের ১৮ জুলাই অর্থ সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্বাক্ষর সংবলিত ২ ও ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হয়।

তবে ১৯৯৩ সালের পর থেকে দেশে আর ১ টাকার নোট প্রচলনে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পর থেকে ধাতব মুদ্রায় জোর দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রাও বাজারে রয়েছে।

৫ টাকার নোট সরকারি মুদ্রা (ট্রেজারি নোট) করার পর বাজারে ‘ব্যাংক নোট’ হিসেবে প্রচলনে রয়েছে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার মুদ্রা। ব্যাংক নোটে স্বাক্ষর করেন গভর্নর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে অর্থ বিভাগে ১৮ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন আব্দুর রউফ তালুকদার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনে কুয়ালালামপুরে প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে (বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচ) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন তিনি।

১২তম গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

গতকাল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এর আর্টিকেল ১০(৩) এবং ১০(৫) অনুযায়ী অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ এবং অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আগামী ৪ জুলাই অথবা তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ১০ম গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগের পর ২০১৬ সালের ২০ মার্চ ১১তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক সিনিয়র সচিব ফজলে কবির। ২০২০ সালের ৩ জুলাই বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধন করে তাকে ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্বে রাখে সরকার।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ম গভর্নর হন এ এন হামিদুল্লাহ। তিনি পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার। ১৯৭৪ সালের ১৯ নভেম্বর ২য় গভর্নর হন এ কে এন আহমেদ। তিনি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে কাজ করেছেন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালের ১৩ জুলাই ৩য় গভর্নর হন অর্থনীতিবিদ এম নূরুল ইসলাম।

১৯৮৭ সালে সেগুফতা বখ্ত চৌধুরী ৪র্থ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ১৯৯২ সালে ৫ম গভর্নর খোরশেদ আলম, ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ গভর্নর লুৎফর রহমান সরকার (ব্যাংকার), ১৯৯৮ সালে ৭ম গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ২০০১ সালে ৮ম গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদ এবং ২০০৫ সালে ৯ম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত