অর্থবছরের ১১ মাস

হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব ঘাটতি ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ১১:৪৭ পিএম

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি কমের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি বলে দাবি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে বন্দরের রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

তবে অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ কমলেও সদ্যসমাপ্ত মে মাসে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হয়েছে। ওই মাসে ২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম নুরুল আলম খান বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত এগারো মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা, এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। চালসহ কিছু পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় হয়নি।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয়। যার কারণে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হলেও তা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি রাজস্ব এসেছে চলতি অর্থবছরে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের এগারো মাসে বন্দর থেকে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে বিগত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিছুদিন থেকে ভারত অভ্যন্তরে ওভারলোডিং বন্ধ করায় বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে গেছে। রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস পাথর আমদানি কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় হয়নি। এছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা এলসি খোলা কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকে এলসির মার্জিন বেশি থাকায় আমদানিতে প্রভাব পড়েছে।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জামিল হোসেন বলেন, বন্দরের কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। বর্ষায় বন্দরের ভেতরে ছাউনিযুক্ত শেড বাড়াতে হবে। ভারী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ক্রেনসহ বিভিন্ন লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়াতে হবে। বন্দরের অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়লে আমদানি-রপ্তানিতে উৎসাহ বাড়বে, যা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত