খাদ্যপণ্য রপ্তানি বন্ধের আগে জানাতে হবে

আপডেট : ১৩ জুন ২০২২, ১১:০৪ পিএম

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতির কারণে মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর হঠাৎ করে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ ঠিক হবে না। রপ্তানি বন্ধ করতে হলে আমদানিকারক দেশকে অবশ্যই নির্দিষ্ট একটা সময়ের আগে তা জানাতে হবে। হঠাৎ করে খাদ্যজাত পণ্য রপ্তানি বন্ধ করার কারণে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদর দপ্তরে সংস্থাটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রথম দিনের বৈঠকে টিপু মুনশি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশসহ অন্যান্য এলডিসিভুক্ত দেশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে, সেটা আরও কয়েক বছর অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের বের হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাবে না। তাই এলডিসির পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওতে দেওয়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রদানের সুযোগ চায় বাংলাদেশ। আমরা মনে করি, উন্নয়নশীল দেশের মৎস্য খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এই খাতে ভর্তুকি দেওয়াটা জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাসে এলডিসিভুক্ত দেশকে সরকারি পর্যায়ে বড় আকারে খাদ্য মজুদ করার মতো সুযোগ রাখা প্রয়োজন। কৃষিসহ ডব্লিউটিওর অন্যান্য যেকোনো সংস্কার বাংলাদেশ সমর্থন করবে। সংস্কার অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ হতে হবে, যেখানে সবার মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো আইওয়ালা বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পরবর্তীতে চলমান বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হঠাৎ করে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ না করাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোকে ঐকমত্যে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত