পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি দিয়ে ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর সংযোগকারী সড়ক ও ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত এমন একটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত উপযুক্ত স্থানে একটি জাদুঘর করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ওই জাদুঘরে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি থাকবে।
তিনি জানান, ভাঙ্গার একটি উপযুক্ত স্থানে পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন সেতুটির নির্মাণ শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ছবিও তুলবেন।
পদ্মা সেতুকে ‘জাতির গর্ব’ ও প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক সাহসিকতার প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় আনলে সেতুটির সার্বিক ব্যয় মোটেই খুব বেশি নয়।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবি, জাইকার মতো অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এই সেতুর জন্য তহবিল ফিরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ়চেতা প্রধানমন্ত্রীই নিজস্ব তহবিলে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করার তার সিদ্ধান্তে সুদৃঢ়ভাবে অটল ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, তবে এর পাশাপাশি, ড. আবুল বারকাত, ড. আতিউর রহমানের মতো কয়েকজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণে সরকারের সামর্থ্যরে কথা তুলে ধরেন। যদিও অনেকেই তখন বিদেশি অর্থের সহায়তা ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ সম্ভব নয় বলে তাদের মত দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি ডিপিপি বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হলেও পদ্মা সেতু যৌক্তিক ব্যয়েই নির্মিত হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মামুন আল রশিদ জানান, সেতুটি নির্মাণের সময় আন্তর্জাতিক মানের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয় এবং সেতুটির মূল কাঠামো নির্মাণে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এতে প্রতি কিলোমিটার খরচ পড়ে ২ হাজার কোটি টাকারও কম।
