অ্যান্টিগা টেস্ট: ব্যাটিংয়ে হতাশার পর ক্যাচও মিস

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০১:১৫ এএম

ওয়েস্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে আবার সেই চিত্র। মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। তৃতীয় দফা নেতৃত্বে নেমে সাকিব আল হাসান ৫১ রান না করলে রানের সংখ্যা আরও কম হতো। আর তামিমের ২৯ রান না থাকলেও তো আবারও ফিরে আসত ৪৩ রানের লজ্জা। ২০১৮ সফরে এ মাঠেই তো টেস্টে নিজেদের সর্বনিন্ম ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। 

সেই লজ্জা ফিরে না এলেও গত সিরিজের এক ইনিংসে ৬ শূন্যর লজ্জা ফিরেছে। আবারও ৬ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন কোন রান না করেই। অথচ একই উইকেটে পড়ে থাকার দারুন উদাহরণ দেখিয়ে চলেছেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেল। প্রথম দিন চা বিরতি পর্যন্ত ১৫ ওভারে মাত্র ১৫ রান করেছেন দুজনে। 
মুমিনুলের ক্যাচ মিসে একবার জীবন পাওয়া উইন্ডিজ অধিনায়ক ৫৫ বলে করেছেন ৯ রান আর ক্যাম্পবেল ৩৬ বলে ১। এখনও ৮৮ রানে পিছিয়ে থাকলেও কঠিন উইকেটে ব্যাট করা যেন শেখাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাটাররা তা শিখলে হয়।

এ টেস্টের শুরু থেকেই নেতিবাচক খবরে ঘিরে ধরে বাংলাদেশকে। একে তো টেস্টে নিজেদের সর্বনিন্ম রানের মাঠ, তার ওপর টেস্টের আগের দিন খবর এল ব্যাটার ইয়াসির আলি ইনজুরিতে। টেস্টের দিন সকালে জানা গেল ফিট হয়ে উঠেছেন কেমার রোচ এবং খেলবেনও। ওদিকে উইকেটে জীবন্ত ঘাসের ছড়াছড়ি। আর টসে হারল বাংলাদেশ। কোনো সন্দেহ ছাড়ায় বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট। দুর্ভাগ্যের এতকিছু মিলে বাংলাদেশ যেন আগেই ব্যাকফুটে চলে গেছে। এরপর শুরু উইন্ডিজ পেসারদের দাপট। এমনিতেই পিচ ভয়াবহ ভাবে পেস সহায়ক। তার ওপর হচ্ছিল এক্সট্রা বাউন্স। গুডলেন্থ থেকেই একের পর এক বাউন্স হয়ে আসা ডিলেভারি আসছিল, যা যে কোন দলের ব্যাটারদের জন্যই খেলা খুব কঠিন। সকালের ময়েশ্চার কাজে লাগিয়ে জীবন্ত ঘাসের উইকেটে এমনই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন উইন্ডিজ পেসাররা।

বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর কেমার রোচই শিকার শুরু করেন, একদম প্রথম ওভারেই। প্রথম বলে একটি সিঙ্গেল নেন তামিম। দ্বিতীয় বলেই রোচের বলে স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয়ের বিদায়। ৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে এর মধ্যেই ৫ বার শূন্য রানে আউট হয়ে গেলেন জয়। ‘গোল্ডেন ডাক’ এবারেরটি নিয়ে দুটি। 

রোচের পরের ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড শান্ত। সামনে পা বাড়ালেও ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল সরাসরি অফস্ট্যাম্প উপড়ে ফেলে। এই নিয়ে টানা ৫ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে আউট হলেন শান্ত। এরপরের হতাশা স্লিপে ক্যাচ দেয়া সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে। আবারও ০ রান করায় টানা ৮ ইনিংসে দুঅঙ্কের ঘরে রান নেই মুমিনুলের। 

তখন বাংলাদেশের রান ১৯। সবকটি রান তামিম ইকবালের ব্যাট থেকেই আসে। একপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও তামিম খেলছিলেন সাবলীল। ওই ১৯ রানে মুশফিকুর রহিমের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। ৪ চারে ৪৩ বলে ২৯ রান করে একমাত্র তামিমই ভালভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। 

কিন্তু দুর্ভাগ্য, আলজেরি জোসেফের লেগ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকটের পেছনে ক্যাচ দিলেন। তামিমের বিদায়ের পর লিটন ও সোহানও ফিরলেন দ্রুত। দুজনকেই এক ওভারে ফেরান কাইল মায়ার্স। 

মিরাজকে নিয়ে ৩৬ রানের জুটি গড়ে দলকে একশ পার করান সাকিব। টেস্টে ২৭তম ফিফটি তুলে নেন ৬৭ বলে ১ ছক্কা ও ৬ চারে। তার কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ইনিংসটি না থাকলে আরও বিপদে পড়ে দল। শেষদিকে রান একাই করছেন সাকিব। ১০৩ রানে তার ফেরার পর দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত