র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বাংলাদেশের বিস্ময় দেখে যুক্তরাষ্ট্রও বিস্মিত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেন, ‘গত বছর ডিসেম্বরে আমরা র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। তারপর অনেকবার শুনেছি যে বাংলাদেশ এতে অনেক অবাক হয়েছে। সম্ভবত আমরাও বিস্মিত তাদের বিস্ময় দেখে।’ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত এমটকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারভিত্তিক এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে পিটার হাসকে প্রশ্ন করেন দূতাবাসের মুখপাত্র কার্লা টমাস।
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পিটার হাস বলেন, ‘২০১৮ সালেই আমরা র্যাবকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করেছিলাম। কেননা মানবাধিকার নিয়ে আমাদের উদ্বেগ ছিল। প্রতি বছর মানবাধিকার প্রতিবেদনে আমরা উদ্বেগগুলো প্রকাশ করেছি। আমরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরেছি। ফলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিস্ময় হিসেবে এলেও আমাদের যে উদ্বেগ ছিল সেটি নিয়ে বিস্ময় থাকার কথা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, এতে করে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। আমি তখন বলি, এতে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা আমাদের অনেক বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আমরা সহযোগিতা করছি। তবে র্যাব ও অন্যান্য ইস্যু সমাধানে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।’
জিএসপি ও ডিএফসি পেতে যা যা করতে হয়, বাংলাদেশ এখনো সেসব পূরণ করেনি উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কিন্তু তারা (বাংলাদেশ) ক্রমাগতভাবে জিএসপি বাধা তুলে নিতে বলছে। জিএসপি ও ডিএফসি ফিরে পেতে আমরা উদ্যোগ অব্যাহত রাখব। অংশীদারিত্বের বিষয়টিকে বাংলাদেশ যত দ্রুত এগিয়ে নেবে, আমরাও ঠিক ততটা দ্রুত এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, প্রতিযোগিতামূলক ও সহিংসতাহীন নির্বাচন দেখতে চায় বলে এমটকে আবারও উল্লেখ করেছেন পিটার হাস। এছাড়া নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পছন্দ নেই বলেও জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের (বাংলাদেশের) জন্য এখনো এক বছরের বেশি সময় আছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পছন্দ নেই। আমরা কোনো দল বা প্ল্যাটফর্ম বা কোনো কিছুরই পক্ষ নিই না। আমরা যা দেখতে চাই সেটি মনে হয় বাংলাদেশের সব মানুষই দেখতে চান। সেটা হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি নির্বাচন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি দেখা জরুরি যেন সবাই এখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করে।’
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলতে তার দেশ কুণ্ঠিত নয় জানিয়ে পিটার হাস বলেন, ‘এসব আলোচনা হতে হবে খোলামেলা।’
এমটকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নির্বাচন, বাণিজ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন রাষ্ট্রদূত।
