তথ্যমন্ত্রী বললেন

খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমি রক্ষা প্রয়োজন

আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ০১:৫৭ এএম

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রাখতে কৃষিজমি রক্ষা একান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবিদদের নানা উদ্ভাবন ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শুধু পৃথিবীকে নয়, বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এ নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রাখতে দেশে কৃষিজমি রক্ষা একান্ত প্রয়োজন।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। কৃষি তথ্য সার্ভিস এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর দেশে এক শতাংশ কৃষিজমি কমে যায়। এভাবে প্রতি বছর যদি দুই লাখ একর কৃষিজমি হারিয়ে যায়, তাহলে শেষ নাগাদ এ দেশে আর কৃষিজমি থাকবে না। ২০ বছর পর বাংলাদেশে লোকসংখ্যা আর চার কোটি বৃদ্ধি পাবে আর ৪০ লাখ একর কৃষিজমি কমে যাবে। তখন বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তার কী হবে সেজন্য জনসচেতনতা যেমন দরকার একই সঙ্গে যারা এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন তাদের এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে যখন চট্টগ্রামের কোনো রাস্তা আরও প্রশস্ত করার প্রস্তাব আসে তখন আমি সেখানে যে অনেক কৃষিজমি নষ্ট হবে, পাহাড়-বন কাটতে হবে, পরিবেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সত্যিকার অর্থে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রয়োজন নির্ধারণ করতে বলি। একই সঙ্গে এখন কৃষিশ্রমিকের যে মজুরি তা দিয়ে কৃষিতে খুব বেশি লাভ থাকে না বলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। কৃষিকে পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে অনাবাদি জমিতে আবাদ করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে জনগণ ও এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে।’

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এখন মাঠে বড় ধরনের কোনো ফসল নেই। এ বন্যায় যতটুকু ক্ষতি হবে, সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেজন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে। ফলে এ বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। বন্যায় আমন ধানের ক্ষতি হবে না। সারা দেশে খুব বেশি বীজতলা করা হয়নি এখনো; যা হয়েছে সেটাও নষ্ট হলে খুব সমস্যা হবে না। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে, পরবর্তীকালে সেগুলো চাষিদের দেওয়া হবে। তবে আউশের ক্ষতি একটু বেশি হতে পারে। এখন ১১ লাখ হেক্টর আউশের লক্ষ্য ছিল, এর মধ্যে ২২ হাজার হেক্টর এখন পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন শাকসবজি আছে, সেগুলোর কিছু ক্ষতি হবে।’

কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুরজিত সাহা রায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এমএ সাত্তার ম-ল, চ্যানেল আই পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত