প্রকাশক ইমেরিটাস মহিউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণ দিবসে তাঁর অবদান ও অর্জন উদ্যাপনের আয়োজন করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
বুধবার মহিউদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউপিএল অফিস প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়েছে। এতে তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা প্রকাশনা জগতে মহিউদ্দিন আহমেদের অবদান ও অর্জন উদ্যাপন করবেন।
রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউপিএলের অফিসে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর এই দিনে দেশের প্রকাশনা শিল্পের অগ্রপুরুষ মহিউদ্দিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। দেশের প্রকাশনাশিল্প আজ যাঁদের মেধা ও শ্রমের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে এবং আন্তর্জাতিক সুনাম বয়ে এনেছে মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁদের অন্যতম।
দেশের প্রকাশনাশিল্পে অনন্য ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ২০১৪ সালে ইউপিএল প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন আহমেদকে ‘ইমেরিটাস প্রকাশক’ সম্মাননা দেয়।
অ্যারিজোনার বেনসনে অবস্থিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি’র আন্তর্জাতিক কার্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে মহিউদ্দিন আহমেদকে ‘পাবলিশিং ম্যানেজমেন্ট’ (প্রকাশনা ব্যবস্থাপনা) বিষয়ে ‘কালচারাল ডক্টোরেট’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
১৯৪৪ সালে ফেনীর পরশুরামে জন্মগ্রহণ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান পোস্টাল সার্ভিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নটর ডেম কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ভর্তি হন। সেখান থেকে পড়া শেষ করে পাকিস্তান কাউন্সিল স্কলারশিপ নিয়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এমএ শেষ করে তিনি পাকিস্তান টাইমসে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৭২ সাল পর্যন্ত নানা দায়িত্ব পালন করে স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন। তার নেতৃত্বে ১৯৮১ সাল থেকে মোট ১৬ বার ইউপিএল ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার’ পুরস্কার লাভ করে। ১৯৯১ সালে তিনি স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৭ জন প্রকাশককে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান। মহিউদ্দিন ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।
২০১২ সালে মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেন। ১৯৬৬-৬৯ সময়কালে কারাগারে বন্দীদশায় বঙ্গবন্ধু দিনলিপি আকারে এই আত্মজীবনী লিখেছিলেন। বাংলা ভাষার পাশাপাশি বইটি একইসঙ্গে ভারত (পেঙ্গুইন) ও পাকিস্তানে (ওইউপি) ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় প্রকাশ করার ব্যবস্থাও তিনি করেন।
