সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দুদকের

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০৩:৪৩ এএম

ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে ঋণ নিয়ে ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ তাহমিলুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থার উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

মামলায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের কোম্পানি ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ৬ জন ও সোনালী ব্যাংকের ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ছাড়া ওই কোম্পানির বাকি পাঁচজন হলেন চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশীদ, পরিচালক জি আর চৌধুরী ওরফে গোলাম রব্বানী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন মিয়া, এ এইচ এম জাহাঙ্গীর ওরফে আবু হাসান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও রাজিব সিরাজ।

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের অন্য আসামির মধ্যে আছেন সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমানুল্লাহ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান ও শফিকুর রহমান, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার মোশারফ আলী, মো. কামরুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সালেহ, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আলী আরশাদ, মো. আবু মুসা ও আব্দুল গফুর ভুইয়া, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আতিকুর রহমান, ওয়াহিদ উদ্দিন আহম্মদ ও এস এম এম আওলাদ  হোসেন এবং সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ওয়ান স্পিনিং মিলস লিমিটেডের নামে ২০০৪ সালে এলসির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। দুদকের অনুসন্ধানে ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ পাওয়া যায়নি। ঋণ হিসেবে ৩২ কোটি ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাতের জন্য দায়ী সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকজন বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। অনেক আসামি আবার বিদেশে পলাতক।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে এক মামলায় আদালতের রায়ে সাত বছর কারাদণ্ড হয়েছে মামুনের। ওই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে জজ আদালত খালাস দিলেও আপিলের রায়ে হাইকোর্ট তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০  কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত