বন্যায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত : কৃষিমন্ত্রী

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০৩:৪৫ এএম

মাঠে এই মুহূর্তে তেমন কোনো ফসল না থাকায় বন্যায় ধান জাতীয় ফসল উৎপাদনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন,এখন মাঠে বড় ধরনের কোনো ফসল নেই। তারপরও চলমান বন্যায় সুনামগঞ্জ ও সিলেটে ২২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে। এখন বন্যা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, মৌলভীবাজারসহ অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া শাকসবজি, তিল, বাদাম প্রভৃতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী না হলে এখন পর্যন্ত যতটুকু ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেজন্য ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে।

আমন ধানের উৎপাদন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে আমন একটি বড় ফসল, যেখানে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টনের মতো চাল উৎপাদন হয়। এখন রোপা আমনের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বন্যা আর না বাড়লে বীজতলা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমনের বীজতলা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব বীজতলা করা হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার করা হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে, সেগুলো চাষিদের দেওয়া হবে। অন্যদিকে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নাবী জাতের (লেইট ভ্যারাইটি) ধান চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। বন্যার কারণে যদি আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা চাষ না করা যায়, তা হলে রবি মৌসুমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সেজন্য ক্ষতি পোষাতে কৃষকদের বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

চলমান বন্যার কারণে শাকসবজির দামে প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বন্যার কারণে দেশে খাদ্য সংকট হবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত