সিলেটে প্রধানমন্ত্রী ৭ প্যাকেট ত্রাণ দিয়েছেন :ফখরুল

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০১:৫০ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২০০৪ সালের বন্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে গেছেন। আর সাতজন মানুষকে নিয়ে গিয়ে লোক দেখানো ৭টি প্যাকেট তুলে দিয়ে গেছেন। এটাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের তফাৎ।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বন্যাদুর্গত সিলেটে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গর্দনা এলাকার খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সিলেট জেলা বিএনপি কর্র্তৃক আয়োজিত বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল সিলেটবাসীর এই দুঃসময়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে নেই। প্রধানমন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউজে মন্ত্রী-এমপিসহ বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। কোনো কিছু দেননি। তিনি ৩০ লাখ বন্যার্তের জন্য ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকার বিপদগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের কী হবে।’

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘তারা উন্নয়নের সেøাগান দিচ্ছে। তারা দুর্নীতি করার জন্য শুধু বড় বড় প্রজেক্ট করছে, যেখান থেকে তারা লুটপাট করতে পারবে। তারা সাধারণ জনগণের জন্য কিছু করছে না। তারা এখন পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যস্ত আছে। বন্যায় মানুষ ভেসে যাচ্ছে, খাবার পাচ্ছে না, চিকিৎসা পাচ্ছে না। সেদিকে সরকারের কোনো নজর নেই। মনে হয় দেশে শেখ মুজিব আর শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় তাকে বহনকারী বিমান সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেট পৌঁছে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আপনাদের কাছে এসেছি। আমরা জানি আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু দিতে পারব না। তার পরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এসেছি। এ সরকার জনগণের পাশে নেই, কারণ তারা বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে আছে। বিএনপি অতিতেও আপনাদের পাশে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক হাজি ইয়াসিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রশিদ চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাফিজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইন্তাজ আলী চেয়ারম্যান, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বাহার প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত