প্লাবনের ঝুঁকিতে পদ্মাপাড়ের তিন জেলা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০২:১২ এএম

দেশের হাওর অঞ্চলের বেশির ভাগ জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো বিপদ কাটেনি সিলেটের দক্ষিণাঞ্চলে। কুশিয়ারা নদীর অববাহিকায় ফের বাড়তে শুরু করেছে পানি। এতে পানি বাড়ছে হাকালুকি হাওরে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে বন্যার পানিও বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কুড়িগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত পানি কমছে। তবে তিস্তা অববাহিকার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় আগামী দুদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। গঙ্গার উজানেও বৃষ্টি বেড়ে পদ্মা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গা-পদ্মা ছাড়া দেশের সব প্রধান নদন্ডনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল দেশের ১০ নদীর ১৯ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। গতকাল ১১ নদীর ২১ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল।

কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, ঘাঘট, আত্রাই, সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন সুরমা, তিতাস এবং সোমেশ্বরী নদীর ২১ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যে বাউলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। এসবের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ৩ পয়েন্টের পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে আছে। যমুনা নদীর ৪ পয়েন্টের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে। গতকাল ছিল ৫ পয়েন্টের পানি। গতকাল সুরমার তিন পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। আজ দুই পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে। এদিকে গতকাল কুশিয়ারার দুই পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ তিন পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা আছে কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টের পানি। সেখানে পানি বিপৎসীমার ১৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টের পানি ৯৯ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। তবে সবগুলো পয়েন্টের পানি আগের চেয়ে কমেছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর গাণিতিক মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকা ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কম। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, ধরলা, দুধকুমার এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদন্ডনদীর (তিতাস ছাড়া) পানি কমা অব্যাহত থাকতে পারে, অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে (জলপাইগুড়ি, সিকিম) মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে এ সময় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে ওই সময় রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভারতের গঙ্গার উজানেও বৃষ্টি বাড়তে পারে। এরই মধ্যে গঙ্গা অববাহিকার বাংলাদেশ অংশের পদ্মায় বৃষ্টি বাড়তে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্রের পানিও যমুনা হয়ে পদ্মায় এসে জড়ো হলে এর ফলে আগামী সপ্তাহজুড়ে পদ্মাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা থাকতে পারে। বাকি এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, দেশের মধ্যাঞ্চল ছাড়া বাকি এলাকায় বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে। যে এলাকা দিয়ে পানি নামছে, সেখানে স্বল্পস্থায়ী বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পদ্মাপাড়ের জেলাগুলোতেও বন্যা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। এর ফলে সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত